
শেষ আপডেট: 26 July 2022 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘আমাদের কেউ নেতা নন। আমাদের কোনও তহবিল নেই। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, আমাদের মাথার উপর কোনও পার্টির ছাতা নেই। কারণ তিনটির কোনওটাই আমরা চাইনি।’
বলছিলেন পার্থ মণ্ডল। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC Protest) নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ময়দানে চলা অবস্থান-বিক্ষোভ আন্দোলনের এক কর্মী তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পালা করে নিজেদের পয়সা খরচ করে আসি, আবার ফিরে যাই। কারও কাছ থেকে এক টাকাও চাঁদা তুলিনি।’
মঙ্গলবার আন্দোলনের ৪৯৯ তম দিন পর্যন্ত এই মঞ্চে দেখা করে গিয়েছেন বিজেপির দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী, মহম্মদ সেলিম, কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী, এমনকি তৃণমূলের মদন মিত্রও। মঞ্চে না এলেও মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি লিখে দাবিদাওয়া বিবেচনার আর্জি জানিয়েছেন সমাজের বিশিষ্টদের অনেকেই। গত সপ্তাহে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর কলকাতা সফরে আসা কেন্দ্রের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আন্দোলনকারীদের ডেকে কথা বলেছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি কী? ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশন আয়োজিত মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় নম্বর ভিত্তিক মেধাতালিকা প্রকাশ, ১:১.৪ অনুপাত অনুসরণ ইত্যাদি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এসএমএসে অবৈধ নিয়োগ; প্রথম সারির প্রার্থীকে বঞ্চিত রেখে পেছনের সারির প্রার্থী অকৃতকার্যদের নিয়োগ করা হয়েছে।
এর বিরুদ্ধে কলকাতা প্রেস ক্লাবের সামনে ২০১৯ সালে মেধাতালিকাভুক্ত বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীরা প্রথম দফায় অনশন করেছিলেন টানা ২৯ দিন। গত বছর জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় দফায় সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্কের কাছে চলে ১৮৭ দিনের অবস্থান বিক্ষোভ। গত বছরই ৮ অক্টোবর থেকে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের ধর্না।
আন্দোলনকারীদের তরফে পার্থপ্রতিম মণ্ডল; মহম্মদ রাকিব হোসেন; সুদীপ মণ্ডল প্রমুখের আর্জি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো মেধাতালিকাভুক্ত সব বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীকে দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
আরও পড়ুন: ওঁর শেষযাত্রায় ছিলাম… কার কথা বলতে গিয়ে চোখ ছলছল