
শেষ আপডেট: 20 March 2023 09:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে নিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল হুগলির তৃণমূল নেতা শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়ের (Srikumar Chatterjee) দেহ। গুরুদা নামেই যাঁর পরিচিতি ছিল গোটা এলাকায়। একই দিনে একই ঘর থেকে মিলেছিল শ্রীকুমারবাবুর ছেলে রূপকুমারের দেহও। শ্রীকুমারবাবুর দেহের পাশে যে সুইসাইড নোটটি (suicide note) পাওয়া গেছিল তাতে তাঁদের মৃত্যুর জন্য অয়ন শীলকে (Ayan Sil) দায়ী করেছিলেন তিনি।
টানা ৩৭ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর সোমবার ভোররাতে সল্টলেক থেকে গ্রেফতার করা হয় অয়ন শীলকে। তারপরেই হুগলির দেবানন্দপুরে নতুন করে উঠে এসেছে শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায় ওরফে গুরুদার নাম। বাসিন্দারা বলছেন, চাকরি দেওয়ার নামে এলাকার যুবক-যুবতীদের থেকে তিনি নাকি দু’কোটি টাকারও বেশি তুলেছিলেন, আর সেই টাকা তুলে দিয়েছিলেন অয়ন শীলের হাতে। কিন্তু চাকরি হয়নি কারওই। পরে এই সমস্ত ছেলেমেয়েদের চাকরির জন্য দরবার করতে গেলে গুরুদাকে নাকি কার্যত ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছিলেন অয়ন। তারপরেই ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ছেলের দেহ।
দেবানন্দপুরে বাসিন্দা স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায় শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিবেশী। পেশায় আইনজীবী স্নেহাশিসবাবু জানান, এলাকায় একজন আপাদমস্তক ভদ্রলোক হিসেবেই পরিচিতি ছিল শ্রীকুমারবাবুর। নিজে ডিএম অফিসে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী পূরবীও সরকারি চাকরি করতেন। তিনি বলেন, “কংগ্রেস কর্মী ছিলেন। এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে কখনও দু’বার ভাবতেন না। জেলাশাসকের অফিসে বহ লোকের চাকরি করে দিয়েছেন। সেই গুরুদাই পরে তৃণমূলে যোগ দেন। অয়নের পাল্লায় পড়েই জড়িয়ে পড়েছিলেন নিয়োগ দুর্নীতি চক্রে। তাঁকে সবাই বিশ্বাস করতেন। এটাই কাজে লাগিয়েছিল অয়ন। গুরুর আত্মসম্মান ছিল তাই হয়ত আত্মহত্যা করল কিন্তু অয়নদের কী হবে! আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।”
শ্রীকুমারবাবুর ভাগ্নে সুরজিৎ চক্রবর্তী জানান, চাকরি পাওয়ার জন্য তিনিও তিন লাখ টাকা দিয়েছিলেন তাঁর মামাকে। কখনও এতটুকু অবিশ্বাস হয়নি। পরে অবশ্য চাকরি হয়নি। তাঁর মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড থেকে স্নাতকের মার্কশিটের অরিজিনাল সবই মামার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেগুলিও আর ফেরত পাননি। পরে ডুপ্লিকেট কপি বের করতে হয়।
দেবানন্দপুরের দুলাল দাসের স্ত্রী গীতিকা দাস বিছানায় শয্যাশায়ী। গত নভেম্বর মাসে সেরিব্রাল অ্যাটাক হওয়ার পর থেকে চলার শক্তি নেই। মাসে পাঁচ হাজার টাকার ওষুধ লাগে তাঁর। সেই ওষুধ কিনতে হিমসিম খেতে হচ্ছে দুলালবাবুকে। নিজের ছেলে ও মেয়ের প্রাথমিক স্কুলে চাকরির জন্য বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে জমানো টাকা ও এলআইসির টাকা ভেঙে শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়কে টাকা দিয়েছিলেন বলে জানালেন দুলালবাবু। তবে চাকরি হয়নি কারওই। গভীর অনটনে চলছে সংসার। তবুও শ্রীকুমারবাবুর মৃত্যুর জন্য যে দায়ী তার শাস্তি চাইছেন দুলালবাবু।
অয়নকে ১০ লাখ দিয়ে মেয়ের ইন্টারভিউ হয়েছিল, টাকা খুইয়ে দিশেহারা বলাগড়ের বাসুদেব