সব্যসাচী তৃণমূলে ফিরলে চাওয়া-পাওয়া, দেওয়া-নেওয়ার দাঁড়িপাল্লা কেমন হতে পারে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১১ জুন বিকেল। তৃণমূল (TMC) ভবনে ঘর ওয়াপসি হচ্ছে মুকুল রায়ের। সেদিন সাংবাদিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) প্রশ্ন করেছিলেন যে এরপর কাদের কাদের দলে ফেরাবেন। জবাবে তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, কাদের দলে ফেরানো হবে আর কা
শেষ আপডেট: 7 October 2021 07:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১১ জুন বিকেল। তৃণমূল (TMC) ভবনে ঘর ওয়াপসি হচ্ছে মুকুল রায়ের। সেদিন সাংবাদিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) প্রশ্ন করেছিলেন যে এরপর কাদের কাদের দলে ফেরাবেন। জবাবে তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, কাদের দলে ফেরানো হবে আর কাদের হবে না, এটা ঠিক করতে একটা ব্যাপার ভাবতে হবে। শুনুন, এখানে একটা বিষয় আছে--চরমপন্থী আর নরমপন্থী। যারা ইলেকশনের সময় আমাদের সঙ্গে গদ্দারি করেছে, আমাদের দলের নামে আজেবাজে কথা বলেছে, তাঁদের দলে নেওয়া হবে না।
সবকিছু ঠিক থাকলে, বিষ্যুদবারের বার বেলাতেই তৃণমূলে ফিরছেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta)। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তৃণমূলে ফিরে কী পাবেন সব্যসাচী? তাঁকে কী বা দেবে শাসকদল?
সব্যসাচী ছিলেন রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক এবং বিধাননগর কর্পোরেশনের মেয়র। মেয়াদ ফুরনোর অনেকটা আগেই ২০১৯ সালে তিনি গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। একুশের ভোটে বিজেপির হয়ে লড়াই করেছিলেন সল্টলেক থেকে। সেই লড়াই ছিল টানটান। সুজিত বসু বনাম সব্যসাচী দত্ত। ভোটের আগে সব্যসাচী বলতেন, আমার আর কিছু করার নেই। শুধু সুজিতের মাথা থেকে লাল্বাতিটা খুলে নেব। কিন্তু ভোটের পর দেখা গিয়েছে, সব্যসাচীরই লালবাতি-নীলবাতি আর নেই। বিধাননগরের বিধায়ক হয়েছেন সুজিতই। আবার সব্যসাচী তৃণমূল ছাড়ার পরেই বিধাননগরের মেয়র পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসিয়েছিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তীকে।
অনেকের মতে, সব্যসাচীর বিধায়ক এবং মেয়র কোনওটাই হওয়ার আর সুযোগ নেই কারণ কঠিন সময় যে কৃষ্ণা চক্রবর্তী বিধাননগর কর্পোরেশনকে সাপোর্ট দিয়েছিলেন, তাঁকে দিদি সরাবেন না। তাছাড়া কৃষ্ণার সঙ্গে মমতার সম্পর্ক অনেক পুরনো। রাজনৈতিক মহলের মতে, সামনেই পুর ভোট। তৃণমূলও চাইছে সব্যসাচীকে বিজেপি ক্যাম্প থেকে তুলে নিতে। নইলে শুকনো অশান্তি থেকে যাবে। তবে ওই পর্যন্তই।
তাহলে সব্যসাচী তৃণমূলে ফিরে কী করবেন? তাঁর কি কোনও কাজ থাকবে না?
পর্যবেক্ষকদের মতে, সব্যসাচীকে বাংলার বাইরের সংগঠনের দায়িত্ব দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা ত্রিপুরায় পাঠানোর। কারণ একটা সময়ে দলের হয়ে ত্রিপুরার পর্যবেক্ষক ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে বাংলায় সরকার গড়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলার আস্তাবল ময়দানে যে সভা করেছিলেন, সেই সভার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল সব্যসাচীর ওপরেই। দিনের পর দিন সেখানে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। আর একুশে যেভাবে তৃণমূল ত্রিপুরায় দৌত্য শুরু করেছে, তাতে একজন অভিজ্ঞ নেতার সারাক্ষণ সেখানে থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তৃণমূলের অনেকে। কারণ বাংলা থেকে গিয়ে মলয় ঘটক, ব্রাত্য বসু, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সেই কাজ করা মুশকিল। কারণ রাজ্যে তাদের পৃথক পৃথক সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের অনেকে মনে করছেন, যেভাবে সব্যসাচী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তারপর যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দলে ফিরিয়ে নিচ্ছেন সেটাই বড় পাওনা। তৃণমূলে ফিরে এখন তিনি যা চাইবেন তাই পাবেন না। আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। ফলে পুরনো দলে ফিরলেও সব্যসাচীর বিশেষ কিছু পাওয়ার বাসনা থাকবে না। কারণ দেওয়া-নেওয়ার দাঁড়িপাল্লায় ভারসাম্যই রাখবে কালীঘাট।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'