মইদুল মৃত্যুর তদন্তে 'সিট' গড়ল লালবাজার, তাঁকে উদ্ধার করার ঠিক আগে কী হয়েছিল, রয়ে গেছে সংশয়
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্ন অভিযানে এসে বাঁকুড়ার বাম যুবনেতা মইদুল ইসলাম মিদ্যার মৃত্যুর ঘটনায় সাত সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করল লালবাজার। পুলিশের দাবি, জানবাজারের যে হোটেলের সামনে থেকে মইদুলকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে তিনি কী করে
শেষ আপডেট: 17 February 2021 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্ন অভিযানে এসে বাঁকুড়ার বাম যুবনেতা মইদুল ইসলাম মিদ্যার মৃত্যুর ঘটনায় সাত সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করল লালবাজার। পুলিশের দাবি, জানবাজারের যে হোটেলের সামনে থেকে মইদুলকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে তিনি কী করে এলেন তা জানা যায়নি।
বৃহস্পতিবার নবান্ন অভিযানে এসেছিলেন মইদুল। শিক্ষা, স্বাস্থ্যের অধিকার, চাকরির প্রতিশ্রুতি-সহ একাধিক দাবিতে নবান্ন অভিযান চালায় বাম ছাত্র-যুব নেতৃত্ব। আরও বহু যুবকের সঙ্গে মইদুলও মিছিল করে এগোচ্ছিলেন নবান্নের দিকে। ধর্মতলায় পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে ছত্রভঙ্গ হয় মিছিল। চলে জলকামান, টিয়ার গ্যাস। বেধড়ক লাঠিচার্জও করে পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশের মারেই গুরুতর আহত হন মইদুল। তার পরে তাঁর মৃত্যু হয় ক্যামাক স্ট্রিটের একটি নার্সিং হোমে। একটি ভিডিওয় দেখা যায়, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন মইদুল, আর বলছেন "আমি আর বাঁচবনি..."
ময়নাতদন্তে জানা যায় কিডনি বিকল হয়ে মারা গেছেন মইদুল। বাম কর্মী-সমর্থকদের দাবি, পুলিশের লাঠি খেয়েই কিডনিতে আঘাত পান তিনি। এবার পুলিশই গড়ল সিট। তাদের দাবি, ওই দিন আসলে কী ঘটেছিল, সে সত্য অনুসন্ধানে তদন্ত দরকার। নবান্ন অভিযানের দিনের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধর্মতলা থেকে কীভাবে জানবাজারের ওই হোটেলের সামনে মইদুল পৌঁছলেন, সে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে পুলিশ। সাত সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
পুলিশের লাঠিতে মৃত্যুর অভিযোগ উঠলেও, পুলিশ পাল্টা দাবি করেছে, মইদুল ইসলামের পুলিশের লাঠি আহত হওয়ার কোনও ফুটেজ দেখা যায়নি। তিনি জানবাজারের হোটেলের সামনে কাতরাচ্ছিলেন, সেটাই সকলে দেখেছেন। কিন্তু তার আগে কী হয়েছিল, জানা দরকার।
মইদুলের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছিল নিউমার্কেট থানায়। তার পর থেকেই নিউমার্কেট থানা ও লালবাজারের গোয়েন্দা শাখার আধিকারিকরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। বাম নেতা ও চিকিৎসক ফুয়াদ হালিমের কাছেও তথ্য চেয়েছে নিউ মার্কেট থানা, কারণ প্রথমে তাঁর ক্লিনিকেই ভর্তি করা হয়েছিল মইদুলকে। আপাতত অপেক্ষা করা হচ্ছে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য।