দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিদির কথায় মঙ্গলবারই নবান্নের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়েছেন কানন। দিদি নির্দেশ দিয়েছিলেন বুধবারই মেয়র পদ ছেড়ে দিতে। সেই মতো অফিস ছুটি থাকা সত্ত্বেও সকাল থেকে ঘর খুলে বসেছিলেন পুর কমিশনার খলিল আহমেদ। এই বুঝি শোভন চাটুজ্জে এলেন! কিন্তু গোটা দিন গড়িয়ে গেলেও এসএন ব্যানার্জী রোডের লালবাড়ি-মুখো হলেন না মেয়র। বুধবার সন্ধে বেলা একটি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি মানেন। কিন্তু বিপদের দিনে যে বৈশাখী তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, দুনিয়া উল্টে গেলেও তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার বান্দা তিনি নন।
শোভন এ দিন বলেন, "দিদিকে আমি চল্লিশ বছর ধরে চিনি। সেই ৭৮-৭৯ সাল থেকে। তখন আমরা কলেজ গেটে সিপিএমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়ছি। দিদি বক্তৃতা দিতে যেতেন। আমার সঙ্গে পরিচয়ের প্রায় পাঁচ-ছ'বছর পর দিদি সাংসদ হয়েছিলেন। পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি। এখন সেই ঝলসানো রুটি ভেসে উঠছে।" তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন তা পরিষ্কার না হলেও অনেকে মনে করছেন, তাঁর এই উথালপাথাল সময়টাকেই তিনি ঝলসানো রুটি বলেছেন।
কিন্তু মেয়র পদ কবে ছাড়বেন?
শোভন বলেন, "এখনও আমি তাঁর কথা মানি। দিদি মেয়র পদ ছাড়তে বলেছেন। ঠিক সময়ে ছেড়ে দেব।"
দু'জনকে নিয়ে যত কথাই হোক, শোভন সে সবে পাত্তাই দিচ্ছেন না। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "বৈশাখী আমার শুভানুধ্যায়ী। আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বৈশাখীকে নিয়ে যা বলা হচ্ছে তার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। সত্যের অপলাপ হচ্ছে।" তাঁর সঙ্গে বৈশাখীর সম্পর্ক নিয়ে নানান মাখোমাখো গল্প শাসক দলের ভিতরেই চালু আছে। অনেকে বলেন, শোভন একদম "পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া" সুরে জীবনের গান গাইছেন। আগেও বৈশাখীর প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ থেকে কর্পোরেশনে বসে বলেছিলেন, "ও আমার বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছে। আমিও ওঁর পাশে থাকব।" এ দিনও দৃপ্ত কণ্ঠে শোভনের উচ্চারণ, "রাজার মা-কে কেউ ডাইনি বলবে আর সেটা হজম করব, সেই বান্দা আমি নই। বৈশাখী প্রশ্নে কোনও কিছুর সঙ্গে আপোস করব না।"

সিবিআই, ইডি-র মামলা সামলাতে বৈশাখী যে তাঁর মেরুদণ্ড, তা-ও পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার এই সদ্য প্রাক্তনী। শোভনের স্ত্রী থেকে ঘনিষ্ঠ মহলের অনেকেই বলেছেন, শোভনবাবুর এই পতনের জন্য দায়ী বৈশাখীই। আল-আমিন কলেজের অধ্যাপিকার জন্যই তাঁর সর্বনাশ হয়েছে। কিন্তু এ কথা মানতে চাননি শোভন। বলেন, "আমি কি বাচ্চা নাকি! বৈশাখী আমার সর্বনাশ করল আর আমার সর্বনাশ হয়ে গেল!"
আরও পড়ুন: বৈশাখীকে মারতে সুপারি কিলার লাগিয়েছিল রত্না: শোভন, ও একটা মিথ্যেবাদী নোংরা লোক: রত্না
মন্ত্রিসভা থেকে মঙ্গলবার ইস্তফা দেওয়ার পরেই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে, তাহলে কি শোভন এ বার গেরুয়া শিবিরে গিয়ে ভিড়বেন। বুধবার, একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড মুকুল রায়ের শোভন সম্পর্কে দরদী মন্তব্যে সেই জল্পনা আরও অক্সিজেন পায়। কিন্তু টেলিভশন সাক্ষাৎকারে তাতে কার্যত জল ঢেলে দিলেন শোভন।
আগামী কাল, বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন মমতা। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মেয়র হিসেবে শোভনের অদ্যই শেষ রজনী। হয়তো কালই আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ পালকটা খসে যাবে তাঁর। কিন্তু শোভন মনমরা নন। জানিয়ে দিলেন, "এমএলএ-মন্ত্রী-মেয়র হয়ে জন্মাইনি।"
তাঁর শরীরী ভাষায় স্পষ্ট, সব যাক। শুধু বৈশাখী থাক!