
শেষ আপডেট: 26 April 2022 08:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রাফিক ক্রসিংয়ে লাল সিগন্যাল সত্বেও তারস্বরে হর্ন বাজাচ্ছে গাড়ি। পাড়ার জলসায় গভীর রাত পর্যন্ত বাজছে মাইক। থানায় খবর দিলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। মিছিলে, জনসভায় মাইকের কানফাটানো আওয়াজ (Sound Pollution)। পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ ময়দান। কিন্তু মাইকে নেতাদের বক্তৃতার কান ফাটানো শব্দ শুনেও নির্বিকার পুলিশ।
এমনকী পাড়ায় ফেরিওয়ালার প্রচার গাড়ির মাইকের শব্দ যন্ত্রণাও নতুন উৎপাত হয়ে হাজির হয়েছে। বিরক্তিকর শব্দ করে চলছে বাইকবাজি।
কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। এমন গুরুতর সব অভিযোগ জমা পড়েছিল পরিবেশ আদালতে। অভিযোগের জবাবে পুলিশের দেওয়া হলফনামার বক্তব্যকে দায়সারা বলে উল্লেখ করলেন পরিবেশ আদালতের পূর্বাঞ্চলের বেঞ্চের দুই বিচারপতি বি অমিত স্থলেকর ও শৈবাল দাশগুপ্ত। দ্বিতীয়জন বেঞ্চের বিশেষজ্ঞ সদস্য।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শব্দসীমা মাপা এবং শব্দ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র মাইক্রোফোনে লাগানো আছে কিনা পরীক্ষা করতে গোটা রাজ্যে পুলিশকে ৮০০ করে দু'ধরনের মোট ১৬০০ যন্ত্র দেওয়া হয়েছিল। আদালতের বক্তব্য, পুলিশ যেটুকু কাজ করেছে তাকে স্বচ্ছন্দে লোক দেখানো বলা চলে।
কেন পুলিশ উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে পারছে না। পরিবেশ কর্মীদের বক্তব্য, শব্দ যন্ত্রণাকে পুলিশ কর্মীরাই আইন ভঙ্গ বলে মনে করে না। এই ধরনের অভিযোগ এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দেয়।
শব্দ সমস্যা এবং যন্ত্রগুলির ব্যবহার নিয়ে পুলিশের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই।
ধর্মীয় শোভাযাত্রায় শব্দ বিধি নিয়ে পুলিশ কার্যত হাত গুটিয়ে থাকে স্পর্শকাতরতার কারণে।
আর রাজনৈতিক মিটিং মিছিলের ক্ষেত্রে পুলিশ আমরা ওরা করে কর্তব্য সারে। যেমন সিপিএমের রাজ্যসভার সদস্য তথা আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যর বিরুদ্ধে সোমবার পুলিশ শব্দ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ দায়ের করেছে। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে গতকাল একটি সভায় উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই শব্দ বিধি ভাঙা হয় বলে পুলিশের অভিযোগ। অথচ শাসক দল তৃণমূল হামেশাই এমন সভা সমাবেশ করছে যেখানে শব্দ বিধির বালাই থাকছে না। অথচ পুলিশ নীরব।
আদালত পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে বলেছে আরও বিশদে হলফনামা জমা করতে। তাতে শব্দ দানব দমনের রোড ম্যাপ জমা করতে বলেছে কোর্ট।
তাপপ্রবাহে জেলাগুলিকে সতর্ক করল নবান্ন, দিল একগুচ্ছ পরামর্শও