দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি-কে ঠেকাতে বিধানসভায় বাম-কংগ্রেসকে পাশে পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে বিধানসভার ভিতর আবদুল মান্নান, সুজন চক্রবর্তীরা পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন। এ বার বিধান ভবনও খোঁচা দিতে ছাড়ল মমতাকে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, “কংগ্রেস জন্মলগ্ন থেকেই আরএসএস- বিজেপি'র মেরুকরণ এবং বিভাজনের রাজনীতি রুখছে। আপনি তো বলেন, “কংগ্রেস সাইনবোর্ড হয়ে গিয়েছে। বুঝতে পারছি না, আবার এখন কেন সেই সাইনবোর্ডের হাত ধরতে চাইছেন!” সন্দেহ নেই শ্লেষের সঙ্গেই তৃণমূলনেত্রীর বিরুদ্ধে এই বাক্যবাণ ছুড়েছেন বর্ষীয়ান সোমেন।
প্রসঙ্গত, এই লোকসভা ভোটের প্রচারেও কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দিনাজপুরে গিয়ে দিদি বলেছিলেন, “যাঁরা যেখানে শক্তিশালী, তাঁরা সেখানে লড়ছে। কংগ্রেসের এখানে কিছু নেই। ওরা বাংলায় সাইনবোর্ড হয়ে গিয়েছে। ওরা মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ছত্তীসগড়ে লড়ছে লড়ুক। ওখানে তো আমরা যাচ্ছি না!”
কিন্তু এখন ভোট হয়ে গিয়েছে। আরও ক্ষমতা বাড়িয়ে দিল্লির কুর্সিতে বসেছে দ্বিতীয় মোদী সরকার। আর বাংলাতেও বিজেপি বহুগুণ আগ্রাসী। ভোট বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। দুই থেকে এক লাফে আসন হয়েছে ১৮টি। পর্যবেক্ষকদের মতে, খানিকটা আতঙ্কিত হয়েই বাম-কংগ্রেসকে পাশে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন মমতা।
এ দিন রাজ্যপালের বক্তৃতার উপরে হওয়া আলোচনার জবাবি ভাষণ মুখ্যমন্ত্রী। সেই বক্তৃতাতেই মমতা বলেন, “মান্নান ভাই, সুজনদা চলুন বিজেপি-কে রুখতে আমরা এক সঙ্গে লড়াই করি”। বাম ও কংগ্রেস বিধায়করা রে রে করে উঠতেই আবার ব্যাখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি রাজনৈতিক জোট করার কথা বলিনি। যে ভাবে জাতীয় স্তরে ২৩টি রাজনৈতিক দল লড়াই করছি। সেই ভাবে লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।”
মান্নান তো একপ্রস্থ কটাক্ষ করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বিজেপি-কে ঠেকাতে তৃণমূলের সঙ্গে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। পরে প্রদেশ সভাপতিও স্পষ্ট করলেন একই কথা।”