
শেষ আপডেট: 4 August 2019 18:30

পরিবেশ দূষণ এড়াতে অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়াতে বলছেন পরিবেশবিদেরা। পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও অপ্রচলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নিত্য নতুন পন্থা বার করছেন গবেষকরা। অন্ধকারে আলো জ্বালাতে গোটা দেশেরই এখন অন্যতম ভরসা সৌরবিদ্যুৎ। গুজরাত, রাজস্থান ইত্যাদি রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের তেমন পরিবেশ নেই। কারণ এখানে সর্বত্র সূর্যের তাপ সমান নয়। ঋতু বদলের কারণে বছরের অনেকটা সময়ে তাপ কমেও যায়। কিন্তু তাতেও যেটুকু উৎপাদন সম্ভব, এত দিন তার খুব বেশি সদ্ব্যবহার করা হয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে বারে বারেই। লক্ষ্য বেঁধেছে রাজ্যে এই উৎপাদন ক্ষমতা ২০২২ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ৪২০০ মেগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার।

ডঃ বিসি রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মেকানিক্যাল বিভাগের অধ্যাপক ডঃ চন্দন চট্টরাজ জানিয়েছেন, সৌরবিদ্যুতের চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। রাজ্যে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বেসরকারি লগ্নির বড় জায়গা আগামী দিনে তৈরি হতে পারে। এর জন্য সরকার থেকে তো বটেই প্রাথমিক স্তরে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ছোট ছোট নানা প্রকল্প নিচ্ছে শহর থেকে জেলার স্কুল-কলেজগুলি। পিছিয়ে নেই ডঃ বিসি রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজও। বাংলার প্রথম সারির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে বরাবরই প্রযুক্তি নির্ভর ও গবেষণামূলক শিক্ষায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছে এই কলেজ। এ বার তাদের নয়া উদ্যোগ ‘সোলার-পাম্প।’ প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে অভাবী মানুষদের কথা ভেবেই তৈরি করা হয়েছে এই পাম্প।
এই পাম্প কাজ করবে সৌরশক্তিতে। অধ্যাপক ডঃ চট্টরাজের কথায়, পাম্পটিতে রয়েছে ২০ ওয়াটের একটি সোলার প্যানেল। সূর্যের আলো প্যানেলে ধরা দিয়ে অ্যাকটিভ করবে এর মোটরকে। পাম্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি পেন্ডুলাম। ‘ক্র্যাঙ্ক রকার’ মেকানিজম পদ্ধতিতে কাজ করবে এই সৌর-পাম্প। পাম্প বানানোর খরচও কম। ১৫ হাজার টাকার কাছাকাছি। একসঙ্গে অনেকগুলো পাম্প বানালে সেই খরচ আরও কমবে। প্রকল্পের কো-সুপারভাইজার অধ্যাপক শিবব্রত মজুমদার বলেছেন, ‘‘এই সৌর-পাম্প যদি আমরা গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দিতে পারি, তাহলে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং শিশুদের খুবই উপকারে লাগবে।’’
https://www.youtube.com/watch?v=rPfpA3IS1eo&feature=youtu.be
গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জলের প্রধান উৎস এখনও নলকূপ। কিছু এলাকায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প রয়েছে। গত কয়েক বছরে সাব-মার্সিবল পাম্প বসিয়ে ভূগর্ভস্থ জল তোলার প্রবণতা বেড়েছে। তবে তার খরচ অনেক। ছোট ছোট পরিবারগুলি এখনও নলকূপের ভরসায় থাকে। তা ছাড়া ভূগর্ভস্থ জল তুলে সেচের কাজও একটা বড় সমস্যা। ডঃ বিসি রায়ের ছাত্রদের বানানো এই সৌর-পাম্প সেচের কাজেও লাগবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপকরা।
২০২২ সালের মধ্যে খরচ কমিয়ে গ্রিড-সংযুক্ত ২০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। ২০১৪ সাল থেকে গত ৯ বছরে দেশে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা প্রায় ৮ গুণ বেড়েছে। পাশাপাশি, গত ১০ বছরে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাও দ্বিগুণ হয়েছে। ১০ বছর আগে যা ছিল ১,১২,৭০০ মেগাওয়াট। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৩৪ লক্ষ মেগাওয়াটে। বিকল্প শক্তির উৎপাদন বাড়াতে বাংলার বিভিন্ন জেলায় মোট ১২০ মেগাওয়াটের নতুন সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য। আগামী অর্থবর্ষ (২০১৯-২০) থেকে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের পদ্ধতিগত কাজ শুরু হবে।
কলেজের ডিরেক্টর ডঃ পীযুষ পাল রায়ের কথায়, ‘‘দেশ জুড়ে সৌর-প্রকল্পের কাজের পথিক ডঃ বিসি রায়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রেরা। প্রযুক্তি তো বটেই, তাদের কাজ সমাজ সেবার এক নতুন দিশা দেখাবে। অনুপ্রেরণা দেবে তাদের বয়সী কিশোরদের।’’