
শেষ আপডেট: 1 February 2019 18:30
১৯৯০ সালে পর থেকে শকুনের সংখ্যায় মাত্রাতিরিক্ত ভাবে কমতে থাকে। হোয়াইট রাম্পড ভালচারের (Gyps bengalensis) পাশাপাশি কমতে থাকে আফ্রিকান গ্রিফন ভালচারের (Gyps fulvus)সংখ্যাও। ২০১৬ সালের একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় ধরা পড়ে বিশ্ব জুড়ে শকুনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ হাজারে। তার মধ্যে সবার প্রথমেই রয়েছে ভারতের নাম। এর পরে নেপাল, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নানা দেশ।
রাজ্যের বন দফতর জানায়, ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সমীক্ষায় ধরা পড়ে, গ্রামাঞ্চলে গবাদি পশুর জন্য ‘ডাইক্লোফেন্যাক’ জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। ওই সব পশুর মৃত্যুর পর সেগুলির মাংস খেয়ে মারা যেতে শুরু করে শকুনরা। কারণ, মৃত পশুর দেহে অবশিষ্ট থাকা ওই ওষুধের প্রভাব পড়ে শকুনের যকৃৎ, কিডনিতে। তা ছাড়া ভাগাড়ে নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে থাকে। মাংসের সঙ্গে সেই সবও পেটে গিয়ে মারণ রোগ তৈরি করে শকুনের দেহে। ঝাঁকে ঝাঁকে পূর্ণবয়স্ক শকুন লোপ পেতে শুরু করে শহর ও গ্রামাঞ্চল থেকে। পরবর্তীকালে শকুন রক্ষায় নানা প্রকল্প নেওয়া হয়। উত্তরবঙ্গে তৈরি হয় শকুনের প্রজনন কেন্দ্র। কলকাতার ময়দানেও বছর কয়েক আগে কয়েকটি শকুনের বাসা নজরে আসে। পরিবেশবিদদের মতে, শকুনের ভূমিকা বাস্তুতন্ত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশের মরা, পচা মাংস খেয়ে প্রাকৃতিক উপায়েই মৃত পশুদের সদগতি করে তারা। শকুনের অভাবেই ভাগাড়ের মাংস অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে চলে আসছে খাবারের পাতে।