
শেষ আপডেট: 21 January 2023 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: স্বামী, দেওর, শ্বশুর, খুড় শ্বশুর…প্রধানেরই ছয় আত্মীয়ের নাম রয়েছে আবাস যোজনার (Awas Yojana) তালিকায়। অবাক হচ্ছেন, তবু এটাই সত্যি। আবাস যোজনা নিয়ে রাজ্য়ের প্রায় প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের ক্ষোভ রয়েছে। গোঘাটের বেঙ্গাই গ্রাম পঞ্চায়েতেও অনেকেই তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আর সেখানকার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান (Gram Panchayat Pradhan) মেনকা মালিকের পরিবারের ছ’জনের নাম রয়েছে আবাস তালিকায়।
গ্রামের দুস্থ মানুষকে বঞ্চিত করে প্রধানের পুরো পরিবারের আবাস তালিকায় নাম উঠল কী করে? এ বিষয়ে দোষের কিচছুটি দেখছেন না মেনকা মালিক। তিনি বলেন, ‘আমি নিজে কিছু চাইনি। সরকার মনে করেছে তাই দিয়েছে। সার্ভের পরই ছ’জন পেয়েছে। আমি প্রধান বলে পেয়েছে এমন নয়। এখন তো পদ দেখে বাড়ি দিচ্ছে না। তারা যোগ্য বলেই পাচ্ছে।’ প্রধানের প্রতিবেশী সোমা রায় বলেন, ‘কিছু বলার নাই। পাশাপাশি বাড়ি, কিছু বললে খারাপ হবে। শুনতে পাচ্ছি প্রধানের পরিবারের ছ’জন ঘর পাচ্ছে। তবে তালিকায় আমাদের নাম আসেনি।’ আরও অনেকেই আবাস তালিকায় নাম না থাকার আক্ষেপ করেছেন। ওই গ্রামের বাসিন্দা রেণুকা রায় জানান, তাঁরা এক বাড়িতে প্রায় ২৫ জন থাকেন। তবু কারও নাম আসেনি আবাস তালিকায়। প্রধানের পরিবারের ছ’জন কী করে পেল? রেণুকা বলেন, ‘ওদের অনেকগুলো পরিবার। প্রধান হওয়ার জন্য হয়তো ওই পরিবারগুলো পেয়েছে। আমাদের চারটে পরিবার এক বাড়িতে। আমাদেরও চারটে বাড়ি পাওয়ার কথা। কিন্তু আবাস যোজনার তালিকায় কারও নাম নাই।’
বেঙ্গাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অনেকেই আবাস যোজনায় ঘরের দাবিদার। অঞ্চল প্রধান মেনকা মালিকের থেকে জানা গিয়েছে এক হাজার চোদ্দো জনের নাম রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল, তার মধ্যে নশ চল্লিশ জনের আবেদন গ্রাহ্য হয়েছে। মেনকা বলেন, ‘বাড়ি দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। দুস্থ মানুষকে দিতে পারলে আমি দিতাম।’
নিজের অবস্থানে অনড় মেনকা মালিক। যে যাই অভিযোগ করুন তাঁর সাফ জবাব, ‘আমি নিজের নামে তো কিছু নিইনি।’ গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক বলেন, প্রধান মেনকা মালিকের একাধিক বাড়ি আছে, গাড়ি আছে, একান্নবর্তী পরিবারে বাস করে। এরপরেও স্বামী-শ্বশুর সহ ছ’জনের নাম পাঠিয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার জন্য। এটাই প্রমাণ করে এই সরকারের প্রশাসনে যারা আছে তারা আবাস যোজনা দুর্নীতিতে যুক্ত। মেনকার জবাব, ‘বিরোধীরা অনেক কিছু বলবে। এখন পরিস্থিতি যাচাই করেই বাড়ি দিচ্ছে। কাঁচা বাড়ি থাকলে অবশ্যই পাবে। দিদিমণি বলেছেন কোনও রং দেখে নয়, যাদের কাঁচা বাড়ি তারা সবাই পাবে।’
কুন্তলকে ইডি হেফাজতের নির্দেশ, নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা