দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হল কাঁথির তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারীকে। তাঁর জায়গায় নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরিকে।
দীর্ঘদিন এই পদে ছিলেন শিশিরবাবু। অনেকে বলেন, কার্যত তাঁর হাত ধরেই সমুদ্র তীরবর্তী এই পর্যটন কেন্দ্র, মত্স্য বন্দরের পরিকাঠামো ঢেলে সাজা হয়েছিল। সপ্তাহ দুয়েক আগে সৌমেন্দু অধিকারীকে কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল নবান্ন। তারপর তা নিয়ে মামলাও হয়। ইতিমধ্যে সৌমেন্দু বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এবার 'কোপ' পড়ল শিশিরবাবুর উপর।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে জনসভা করেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে শুভেন্দু ও অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে গিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, “রাজনীতি তো বুদ্ধিমত্তার লড়াই। আমি যেই বলেছি তোমার বাড়িতে তো একটাও পদ্ম ফোটাতে পারছ না, ওমনি একটা ভাইকে এনে জয়েন করিয়েছে। তার মানে তোমার বাড়িতে আরও অ্যাসিমটোমেটিক পেশেন্ট রয়েছে। তুমি নিজেই প্রমাণ করে দিচ্ছো!”
শিশির অধিকারী এবং তাঁর আর এক ছেলে দিব্যেন্দু অধিকারী তৃণমূলের সাংসদ। শিশিরবাবু আবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃণমূলের সভাপতি। সেদিন কার্যত দলে থাকা সাংসদদেরই ‘উপসর্গহীন বেইমান’ বলে নিশানা করেন যুব তৃণমূল সভাপতি।
তারপরই দেখা গেল দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরান হল শিশিরবাবুকে।
এমনিতে পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে বরাবরই অখিল গিরি অধিকারীদের বিরুদ্ধ শিবিরের নেতা হিসেবেই পরিচিত। শুভেন্দু অধিকারী পরবর্তী সময়ে যেন তাঁকেই তুলে ধরা শুরু করে দিল তৃণমূল।
এদিন শিশিরবাবুকে দ্য ওয়াল-এর তরফে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য ফোন করা হলে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “নো অ্যাকশন। নো রিঅ্যাকশন।”