
শেষ আপডেট: 8 September 2023 10:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠনকে ঘিরে গত ৫ সেপ্টেম্বর কার্যত রণক্ষেত্রর চেহারা নিয়েছিল খেজুরি-২ নম্বর ব্লক। ব্লক অফিসের ছাদে যথেচ্ছ বোমা পড়ার ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন স্বয়ং বিডিও। অশান্তির জেরে সেদিন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত করে দিয়েছিল প্রশাসন। ফেরার সময় খেজুরির তেঁতুলতলা বাজারে কাঁথির ‘তৃণমূল’ সাংসদ শিশির অধিকারীর গাড়ি লক্ষ্য করে আক্রমণ (sisir adhikari attack at khejuri) চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় শুক্রবার পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতি নিয়ে গোলমালের আশঙ্কায় আগেই আদালতে হাজির হয়েছিল বিজেপি। বিজেপির আবেদনের ভিত্তিতে বোর্ড গঠন শান্তিপূর্ণ করতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিরোধী প্রার্থীদের পুলিশ স্কট করে বিডিও অফিসে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি।
বিজেপি প্রার্থী খুকুমণি মণ্ডলের আইনজীবী এদিন আদালতে অভিযোগ করেন, “আদালতের সেই নির্দেশ পুলিশ পালন বোর্ড গঠনের সময় লাঠি, বোম, বন্দুক, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এমনকী ওসি খেজুরির উপস্থিতিতে পুরো ঘটনা ঘটলেও তিনি কোনও পদক্ষেপ নেননি।”
এমনকী হামলার ঘটনায় পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ধারায় মামলা রুজু করেছে বলেও তিনি আদালতে অভিযোগ করেন। ‘সে সময় পুলিশ কি করছিল?’ রাজ্যের কাছে জানতে চান বিচারপতি। সঠিক সদুত্তর না মেলায় এরপরই রাজ্য পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি। বিচারপতি বলেন, “আপনার আধিকারিকদের জিজ্ঞাসা করুন, বোমাবাজি হয়েছিল কিনা? যদি হয়ে থাকে তাহলে কি বিস্ফোরণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে?”
এরপরই অন্য ধারায় মামলা রুজু করা নিয়ে বিচারপতি বলেন, “নয় পুলিশ আইন সম্পর্কে জানে না অথবা পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে।” বিচারপতি আরও বলেন, “২০০ র মতো পুলিশ যদি বোর্ড গঠনের সময় উপস্থিত থাকেন তাহলে এই ঘটনা ঘটতো না।”
মামলায় যুক্ত করা হয় ‘তৃণমূল’ সাংসদ শিশির অধিকারীকেও। তিনি আদালতকে বলেন, “সেদিন আমাকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা মারা হায়। আমি প্রাণ সংশয়ে রয়েছি। পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানানো সত্বেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।” রাজ্যের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়, শিশিরবাবুর অভিযোগ ঠিক নয়। কারণ যেখানে বোর্ড গঠন করা হচ্ছিল সেখান থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে ঘটনাটি ঘটে। সরকারি আইনজীবী আদালতে বলেন, “বোমা নয়, ওগুলো চকলেট বোমা!”
এরপরই বিচারপতি জানান, খেজুর স্থায়ী পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া তমলুকে জেলা শাসকের অফিসে করতে হবে। এজন্য কেন্দ্রের কাছে সিআরপিএফ চাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে খেজুরির বোর্ড গঠনে অশান্তির ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি এফআইআরের তদন্ত এসপিকে করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
আরও পড়ুন: টানা কাজের চাপে মানসিক অবসাদ? কী কারণে বন্দুকের ট্রিগার নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নিচ্ছেন জওয়ানরা