
শেষ আপডেট: 14 January 2023 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: চারদিকে চাষের জমি। একপাশে কলা বাগান (banana garden)। কলা বাগানের মাঝখানে একটা সুড়ঙ্গ। সেই সুড়ঙ্গ (underground tunnel) কলাপাতা দিয়ে ঢাকা। সুড়ঙ্গে নামার সিঁড়িও আছে। কলাবাগানের ভিতর সেই সুড়ঙ্গে আবার মানুষেরও বাস।
বেশ কিছুদিন ধরেই এই সুড়ঙ্গ কাহিনী ঘুরছে চাকদহের (Chakdaha) চাঁদুড়িয়ায়। চাঁদুড়িয়া এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বলিদাপাড়ার বাসিন্দা সিরাজুল মণ্ডল ওরফে রাজু। বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে চাষের জমি আছে তাঁর। সেখানেই কলাবাগান করেছেন তিনি। এখন আর রাতে বড় একটা বাড়ি ফেরেন না। কলাবাগানের সেই সুড়ঙ্গেই নাকি কাটিয়ে দেন। আর তা নিয়েই জল্পনা এলাকায়।
জানা গেল, বছর পঞ্চাশের রাজুর বাবা-মা মারা গেছে অনেকদিন আগেই। এখন বাড়িতে শুধু মূক ও বধির এক দিদি। আবাস যোজনায় ঘর পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঘর পুরো তৈরি করা হয়ে ওঠেনি। এখন কলাবাগানেই দিন কাটে। রাতও।
গ্রামের শেষে দিনের বেলাতেও গা ছমছম করা পরিবেশ। অনেক ডাকাডাকির পরে সুড়ঙ্গ থেকে বেড়িয়ে আসেন সিরাজুল।
কেন এমন সুড়ঙ্গবাস? উত্তরে সিরাজুল জানান, আবাস যোজনার ঘর পেয়েছেন, সেই ঘর শেষ করতে পারেননি টাকা কম পরে যাওয়ায়। এখন দিনরাত বাগানে খেটে টাকা রোজগারের চেষ্টা করছেন। সারাদিন মুড়ি, চিরে, দোকানের পরোটা খেয়ে কেটে যায়। কদাচ ভাত। বললেন, “হনুমানের (monkey) বড্ড উপদ্রব। তাই জমিতে থেকেই কলা পাহারা দিই।” রাতে তো হনুমান থাকে না। সিরাজুলের যুক্তি, সুরঙ্গে রাতের ঘুম নাকি খুব আরামদায়ক হয়।
চাকদহ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ জাকির হোসেন মন্ডল। সিরাজুল তাঁরই এলাকার ছেলে। তাঁর এমন সুড়ঙ্গ বাসের কথা কানে এসেছে তাঁরও। বললেন, “রাজু আমার পাড়ার ছেলে। খুবই কর্মঠ আর সাহসী। বিঘা তিনেক জমি আছে। আবাস যোজনার ঘর পেয়েছিল। একবার সে ঘরে সাপ ঢোকায় খুব ভয়ে ছিল। কেন এখন ঘরে না থেকে সুড়ঙ্গে থাকছে আমি খোঁজখবর নিচ্ছি।”
ফের অফিসে সিবিআই হানা, দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং জানালেন টুইটে