
শেষ আপডেট: 4 October 2023 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত জুলাই মাসে ভেসে গিয়েছিল পর্যটকদের প্রিয় সিমলা, মানালি। প্রবল বৃষ্টি ও হড়পা বানে জায়গায় জায়গায় নামে ধস। বিয়াসের জল এতটাই বেড়ে যায় যে গোটা মানালি শহরই যেন হয়ে ওঠে নদী। জলের তোড়ে ভেঙে যায় একের পর এক বড় হোটেল। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সমতল থেকে পাহাড়ে যাওয়ার একাধিক রাস্তা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এবার কি সেই দৃশ্যেরই পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে সিকিমে? মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া মেঘ ভাঙা বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত সিকিমের পরিস্থিতি দেখে যেন সেই আশঙ্কাই জোরালো হতে শুরু করেছে ।
মঙ্গলবার রাতের পর বুধবার কাকভোরেও মেঘভাঙা বৃষ্টি হয় উত্তর সিকিমে। হড়পা বানে বিপজ্জনকভাবে বাড়তে থাকে উত্তর এবং পূর্ব সিকিম এলাকায় তিস্তা নদীর জল। হু হু করে নদীর জলের স্তর বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গেই ভেসে গিয়েছে একাধিক সেতু। ভেঙে গিয়েছে বিভিন্ন রাস্তা। প্রবল বেগে ভয়ঙ্কর তিস্তা নেমে আসছে উত্তরবঙ্গের সমতলে। যার ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পাহাড়ের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়িতে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। ধস নেমেছে শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটকগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। এর ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সিকিমের সঙ্গে অবশিষ্ট ভারতের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার। শুধু পড়শি রাজ্য নয়, আঁচ এসে পড়েছে উত্তরবঙ্গেও। ভেঙে গিয়েছে একাধিক এলাকার রাস্তা।
দ্য ওয়াল এখন হোয়াটসঅ্যাপেও। ফলো করতে ক্লিক করুন।
পুজোর সময়ে বেশিরভাগ বাঙালিই উত্তরবঙ্গ কিংবা সিকিমে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন। বিশেষ করে এবছর যখন সিমলা-মানালি যাওয়ার রাস্তার অনেকাংশে মেরামতির কাজ চলছে, তাতে বেশিরভাগ মানুষই কাঞ্চনজঙ্ঘামুখী হওয়ারই পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পুজোর ঠিক দু-সপ্তাহ আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ল সিকিম সহ উত্তরবঙ্গ। তবে কি পুজোয় পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার সেই রাস্তাও বন্ধ হতে চলেছে? চিন্তার কালো মেঘ ঘনাতে শুরু করেছে ট্যুর অপারেটর সহ পর্যটকদের মনে।
পাহাড় মানেই মধ্যবিত্ত বাঙালির বরাবরের প্রিয় দার্জিলিং, গ্যাংটক। আবার বেশ কয়েক বছর ধরেই সেই তালিকায় জুড়েছে কালিম্পং-কার্শিয়াঙের বিভিন্ন অফবিট জায়গা সহ উত্তর ও পূর্ব সিকিমের বিভিন্ন পার্বত্য ‘স্পট’। সারা বছর তো বটেই, বিশেষ করে পুজোর সময়ে পাহা়ড়ের মাঝে কয়েকটা দিন নিরিবিলি কাটাতে ভিড় জমান অনেক বাঙালিই। সিকিমের রাস্তাঘাট, অরণ্য, পর্বত, গাছপালা সবই মুগ্ধ করে দেয় কংক্রিটের জঙ্গলে সারা বছর কাটানো শহুরে মানুষদের। সমতল থেকে সিকিমে পৌঁছানোর সময়ে পথের পাশে পাশে সঙ্গী থাকে সুন্দরী তিস্তা। আর সেই সুন্দরীই এখন ফুঁসছে প্রবল বর্ষণে। তিস্তার বাঁধভাঙা জলে ভেসে গিয়েছে সিকিমের একাধিক এলাকা। বৃষ্টি থামার পরে সিকিম তার চির চেনা সৌন্দর্যে ফিরবে কিনা, বন্যার ভয়াল গ্রাস থেকে শহর আর তার মানুষরা রক্ষা পাবে কী করে সেই চিন্তাই এখন প্রবল হয়ে উঠেছে সকলের মনে।