বেহালার বাড়িতে আমার অস্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারত, বৈশাখীর কাছে নিরাপদ, পাল্টা শোভন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে বহুদিন হয়ে গেল। পর্ণশ্রীর পৈতৃক ভিটে ছেড়ে বান্ধবীর সঙ্গে থাকাও প্রায় সাড়ে তিন বছর হতে চলল। এসবের মধ্যেই বৃহস্পতিবারের বার বেলায় কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হতে প
শেষ আপডেট: 17 June 2021 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে বহুদিন হয়ে গেল। পর্ণশ্রীর পৈতৃক ভিটে ছেড়ে বান্ধবীর সঙ্গে থাকাও প্রায় সাড়ে তিন বছর হতে চলল। এসবের মধ্যেই বৃহস্পতিবারের বার বেলায় কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়।
তার কিছুক্ষণের মধ্যেই শোভনবাবু এক রাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন রত্নার বিরুদ্ধে। জানিয়ে দিলেন, বেহালার বাড়িতেই তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারত। আপাতত বান্ধবী বৈশাখীর কাছে তিনি নিরাপদ।
গতকালই জানা গিয়েছিল, শোভনবাবু উইল করে দিয়েছেন, তাঁর অবর্তমানে সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি পাবেন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায় বলেন, এটাই কাল হতে পারে। তাঁর কথায় ‘হয়তো কোন দিন শুনব শোভনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। ওরা কতদিন ওঁকে বাঁচতে দেবে জানি না। আমি একথা প্রশাসনকে জানিয়ে আসব।’
রত্না যা বোঝাতে চেয়েছেন তা হল, বৈশাখী সম্পত্তি লিখিয়ে নিয়েছেন শোভনবাবুকে দিয়ে। এবার যা খুশি হয়ে যেতে পারে। এরপর বৈশাখীর বক্তব্য জানার জন্য দ্য ওয়াল-এর তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই উন্মাদিনীর কথার জবাব আমি দেব না। এই নিন, শোভনবাবুর সঙ্গে কথা বলুন।’
আরও পড়ুন: শোভনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে, আশঙ্কার কথা প্রশাসনকে জানাতে যাচ্ছেন রত্না
বলেই মিল্লি আল আমিন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রাক্তন অধ্যাপিকা ফোন দিয়ে দেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের হাতে। ফোন কানে নিয়েই একের পর এক তোপ দাগেন শোভনবাবু।
পাল্টা আশঙ্কা প্রকাশ করে শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার তো এখন আশঙ্কা হচ্ছে ওরা (পড়ুন রত্নারা) আমার কিছু করে দিয়ে বৈশাখীর নামে চাপিয়ে দিতে পারে।’ শোভনবাবু বারবারই বলেন, বৈশাখী তাঁর দুর্দিনের সঙ্গী। কঠিন সময়ে তাঁর পাশে ছিলেন। এদিনও বারবার সে কথা বলেন তিনি। সেইসঙ্গে এও বলেন, ‘বেহালার বাড়িতেই আমার অস্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারত। আমার দাদা আমায় অনেক বার বলেছিলেন, তোর কিন্তু যখন তখন, যা কিছু হয়ে যেতে পারে! আমি তো এখন বৈশাখীর কাছে নিরাপদে রয়েছি।’
রত্না অভিযোগ করেছিলেন, বৈশাখী এবং তাঁর অধ্যাপক স্বামী হানিট্র্যাপ করে শোভনবাবুর দখল নিয়েছেন। উদ্দেশ্য একটাই ছিল, তাঁর সম্পত্তি নেওয়া। সেই প্রসঙ্গেই রত্না বলেছিলেন, দুটোকেই ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে পেটানো উচিত। তা নিয়ে লালবাজারের দ্বারস্থ হয়েছেন বৈশাখী। শোভনবাবু বলেছেন, ‘ছিঃ ছিঃ! ভাবলেও লজ্জা হয়! এই হচ্ছেন বিধায়ক। আমি প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীকে জানাব।’
শোভন-বৈশাখী-রত্নার সম্পর্কের বিতণ্ডা নিয়ে এমন প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কার কথা আগে শোনা যায়নি। রত্না যখন আশঙ্কা করছেন শোভনবাবুর জীবন নিয়ে তখন শোভন জানাচ্ছেন বৈশাখীর কাছে তিনি নিরাপদ। বরং প্রাণ সংশয় ছিল বেহালার বাড়িতে। যখন তিনি রত্নার সঙ্গে থাকতেন।