
শেষ আপডেট: 8 July 2023 11:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: নিছকই সাধারণ ভোটার। গিয়েছিলেন নিজের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। দাঁড়িয়েছিলেন ভোটের লাইনেও। কিন্তু ভোট দেওয়া আর হল না। আচমকা মুখে কালো কাপড় বেঁধে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। তাতেই গুলিবিদ্ধ (Shot) তিন ভোটার। গুলিবিদ্ধ (Shot) হয়েছেন এক মহিলাও। হুগলির খানাকুলের নতিবপুরে বিহারীলাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনা।
গুলিকাণ্ডের জেরে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে রীতিমতো হুলস্থুল কাণ্ড বেঁধে যায়। ভোটাররা পড়ি মরি করে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ানো শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বুথে ছিল না কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও জওয়ান। রাজ্য পুলিশ থাকলেও তারা দুষ্কৃতী মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়। গুলিবিদ্ধরা হলেন, কাজল পাঁজা, সৌমেন লালা, অশোক বাউর। সকলেই নতিবপুরের বাসিন্দা। ঘটনার পর আহতদের নতিবপুর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুজনের পেটে ও এক ব্যক্তির নাকে গুলি লেগেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে নির্বিঘ্নেই শুরু হয়েছিল ভোট দান পর্ব। দুপুরের দিকে ভোটের লাইন মানুষের বিড় বাড়তেই গোলমাল শুরু হয়। আচমকা বাইকে করে কয়েকজন দুষ্কৃতী বুথে ঢুকে পড়েন। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। তাতেই ওই মহিলা সহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়েছে তীব্র উত্তেজনা। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছেন পুলিশের শীর্ষ কর্তারা।
বস্তত, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবু ভোট শুরু হতেই দেখা গেল অন্য ছবি। শনিবার সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হতেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে সামনে আসতে শুরু করে একের পর এক হিংসা ও অশান্তির (Chaos) ঘটনা। মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম, রেজিনগর, মুর্শিদাবাদের লালগোলা, নওদা, মালদহের মানিকচক, কোচবিহারের ফলিমারি। এভাবেই বেলা যত গড়িয়েছে ততই বেড়েছে নিহতের সংখ্যা। বিকেল পর্যন্ত লাশের সংখ্যা ১৩! গুলিবিদ্ধ একাধিক। স্বাভাবিকভাবেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। সাধারণ বাসিন্দাদের মুখে ঘুরছে একটাই কথা, ভোটকে ঘিরে এত ঢক্কা নিনাদের সার কি হল! ভোটের দিনে তো বহু জায়গায় দেখাই মিলল না কেন্দ্রীয় বাহিনীর।
আরও পড়ুন: ‘কোথায় হিংসা? গণতন্ত্রের উৎসব চলছে’, শুভেন্দুর ঠ্যাং ভাঙার নিদান কুণালের