দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। শুরু হয়েছে দিল্লি-রাজ্য সংঘাত। এর মধ্যেই সাংবাদ মাধ্যমে শনিবার সন্ধের সেই নারকীয় ঘটনার কথা জানালেন নিহত বিজেপি কর্মী প্রদীপ মণ্ডলের স্ত্রী পদ্মা মণ্ডল।
একটি সর্বভারতীয় সাংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, "হঠাৎ দেখলাম তৃণমূল নেতা শাহজাহানের বাহিনী আমাদের বাড়ির দিকে আসছে। স্বামীও ছিল তখন। বুঝতে পারছিলাম না কী করব। কয়েকশো লোকের চিৎকার শুনে ভয়ে প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদে উঠে পড়ি। আমার স্বামী তখন মোটরবাইক স্টার্ট করে অন্য দিকে পালাতে যায়। কিন্তু ওরা ধরে ফেলে। প্রথমে হাতাহাতি। তারপর মাটিতে ফেলে ডান চোখে গুলি করল ওরা। ছাদ থেকে স্বামীর মৃত্যু দেখলাম। আমার কিচ্ছু করার ছিল না।"
ন্যাজাটের প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, শনিবার সন্ধেবেলা গ্রামে গ্রামে যে ঘটনা ঘটেছে সেই নৃশংসতা চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। এখনও চাপ চাপ রক্তের দাগ টাটকা। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, যেখানে পুলিশ ফোর্স দরকার নেই, সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল বাহিনী। আর অশান্তি হতে পারে, হামলা হতে পারে এমন গ্রামগুলি ছিল একেবারে পুলিশশূন্য।
এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে সন্দেশখালিতে। স্থানীয়দের দাবি, তার মধ্যে একজন তৃণমূলকর্মী ও দু'জন বিজেপি কর্মী। তৃণমূল ও বিজেপি দু'দলেরই অভিযোগ, তাঁদের আরও কর্মী নিখোঁজ।
ওই সাংবাদমাধ্যমকে নিহত প্রদীপের স্ত্রী পদ্মা আরও বলেন, "আমরা মিনিট পাঁচেক আগে বুঝতে পারি আমদের বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে ওরা। পুকুরের ও পার দিয়ে একের পর এক বাইক, ম্যাটাডোর আসছিল। উদভ্রান্তের মতো ছুটছিলাম। ওরা টার্গেট করে এসেছিল আমার স্বামীকে মারবে!"
নিহত বিজেপি কর্মীর আর্তনাদ শুনে অনেকেই বলছেন, এ যেন নন্দীগ্রাম নেতাইয়ের ছবি। শুধু জায়গাটা বদলেছে। আর শাসক বিরোধীর রং। স্বজনহারাদের কান্নায় কোনও বদল নেই। সেই একই রকম হাহাকার।
নিমতায় তৃণমূল নেতা নির্মল কুণ্ডু খুনের পর সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র। কিন্তু সন্দেশখালির ঘটনার পর ৩৬ ঘণ্টা কেটে গেলেও মুখ খোলেননি মুখ্যমন্ত্রী। ডিজি-কে ফোন করা হলে তিনি ফোন তুলেই বলেন, "আমি এখন ব্যস্ত আছি।" সোমবার দুপুরে নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে। সেখানে সন্দেশখালি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয় এখন সেটাই দেখার।