
শেষ আপডেট: 20 April 2023 09:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল দাবদাহে হাঁসফাঁস করছে গোটা বাংলা। একটু বেলা গড়ালে রাস্তায় বেরনো যাচ্ছে না। এই গরমে রাজ্য সরকারের নির্দেশে বন্ধ স্কুলগুলিও। কিন্তু রোদের যা তাপ, তাতে স্কুলের কিচেন গার্ডেনের গাছগুলি তো নষ্ট হয়ে যাবে। তাই স্কুলের গাছে জল (watering) দিতে ছুটলেন মন্ত্রীপরিষদ। অবাক লাগছে শুনতে! মায়াপুরের পূর্ব মোল্লাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়েই (school) দেখা গেল এই দৃশ্য। খুদে মন্ত্রীসভার সদস্যেরা গাছে (tree) জল দিচ্ছেন। রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী থেকে খাদ্যমন্ত্রী সকলেই।
এখানে রাজনীতি নেই। বিরোধী দল, শাসকদলের ঝুটঝামেলা নেই। মন্ত্রীরা একে অপরের বন্ধু। একসঙ্গে টিফিন বেলায় খেলে, বেঞ্চে বসে দিদিমনিদের পড়া শোনেন। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী এই শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী। নাম মেঘনা খাতুন। সেই খুদে জানায়, 'সরকারি নির্দেশে আমাদের বিদ্যালয় বন্ধ আছে। আমরা বাড়িতেই পড়াশোনা করছি। তবে বিদ্যালয়ের কিচেন গার্ডেন অনেক কষ্ট করে তৈরি করা হয়েছে। একটা গাছেরও আমরা ক্ষতি হতে দেব না। তাই আমরা মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যদের নিয়ে সকাল ও বিকেলে গাছের পরিচর্যা করব।'
এই মন্ত্রীপরিষদের খাদ্যমন্ত্রী পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র হাসান শেখ। সেই খুদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতো মন্ত্রীসভার সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই তীব্র গরমে বিদ্যালয়ের কিচেন গার্ডেনের রক্ষণাবেক্ষণ করছি। এ যেন ছোটদের এক মজাদার খেলা। খেলার ছলেই পরিবেশের রক্ষণাবেক্ষণ করছে এই স্কুলের পড়ুয়ারা।
পূর্ব মোল্লাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান, শিক্ষক হিরণ শেখ বলেন, সরকারি নির্দেশ মেনে বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। বলা হয়েছে কোনও শিশু যেন বেলা ১০টার পর বাড়ির বাইরে না বেরোয়। তবে স্কুলের মন্ত্রীপরিষদের কথায় প্রধান শিক্ষক বলেন, ওরা এভাবেই বেড়ে উঠুক। জীবনের সঠিক রাস্তা পাক। ওরাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। এই বিদ্যালয়ের শিশুসংসদের মন্ত্রীরা দায়িত্ব নিয়ে গাছেদের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিদ্যালয়ের কিচেন গার্ডেনের টুকটাক সবজি যেমন, কাঁচালঙ্কা, টমেটো ইত্যাদি গাছগুলির রক্ষণাবেক্ষণ করছে খুদেরা। পাতিলেবু, জাম, পেয়ারা, করমচা, গোলাপ, জবা, রঙ্গন, শিউলিফুলের গাছ সব গরমে ধুঁকছে। তাই তাদের পরিচর্যা করছে পড়ুয়ারা। কারণ এই কিচেন গার্ডেন থেকেই বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের কিছুটা সবজি পাওয়া যায়।
চিকিৎসকের গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতালে বিক্ষোভ রোগীর পরিবারের