দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবীণ নেতা মুকুল রায় ততদিনে সর্বভারতীয় বিজেপির সহ-সভাপতি হয়ে গিয়েছেন। সল্টলেকে বিই ব্লকের গেস্ট হাউজ ভাড়া করে ইদানীং থাকেন মুকুলবাবু।
মাস খানেক আগে এক সন্ধ্যায় সেখানেই হঠাৎ দেখা যায় ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্তকে। তাঁর শরীরে কিছুদিন আগে একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। লম্বা চেহারা এখনও সটান রয়েছে, তবে শরীরটা আগের তুলনায় ভেঙেছে। এক পরিচিত তাঁকে বলেন, ‘দাদা আপনার কথা সেদিন দলের ওমুক নেতা বলছিলেন’।
এমনিতে রাশভারী গলা শীলভদ্রবাবুর। ও কথা শুনে বলেন, “কী বলেছেন? আমার শরীর ভাল নয়, তাই এ বার টিকিট দেবে না! তাই তো?” পরিচিত ওই ভদ্রলোক হেসে ফেলেন—‘হ্যাঁ মানে না.. সেটা জানি না’।
রাজ্য রাজনীতিতে কিছু নেতা মুকুল রায়ের অনুগামী বা ঘনিষ্ঠ কিংবা কাছের বলে ‘ব্র্যান্ডেড’। অনেকে বলেন, রাজনীতিতে এমনটা হয়। কারও কারও সঙ্গে গভীর আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। কেউ নেতা হন অন্য কোনও বড় নেতাকে অনুসরণ করে। বা কারও বিধানসভা বা লোকসভার টিকিট জোটে বড় কোনও নেতার ছায়ায় থাকার কারণে।
তৃণমূলে মুকুলবাবু যখন অলিখিত নম্বর টু ছিলেন, সেই সময় থেকেই তাঁর কিছু অনুগামী, ঘনিষ্ঠ ও কাছের মানুষ তৈরি হয়। তাঁরা কেউ যদি হন সাংসদ, কেউ তবে মন্ত্রী বা বিধায়ক, আবার কেউ একেবারে ব্লকের নেতা বা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য।
অনেকে বলেন, শীলভদ্র দত্ত তেমনই। চোদ্দ সালের লোকসভা ভোটের পর মুকুল বাবু যখন তৃণমূলে প্রায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন, তখন অনেকে জল্পনা করছিলেন এবার পৃথক দল গঠন করতে পারেন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী। সে সময়েই অনেকে বলছিলেন, আর কেউ না যাক শীলভদ্র দত্ত মুকুলবাবুর সঙ্গী হবেন। তাঁর সম্পর্কে ধারণা এমনই।

মুকুলবাবু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেও শীলভদ্র দত্তকে নিয়ে জল্পনা হয়। কিন্তু পোড় খাওয়া অনেকেই তখন দেওয়ালে লিখে দিচ্ছিলেন, ‘শীলদা এখন যাবেন না। কেন যাবেন?’ তাঁদের কথায় যুক্তি তো ছিলই। কারণ, মুকুলবাবু তৃণমূল ছেড়েছেন ১৭ সালে। সেই সময়ে শীলভদ্র দত্ত তাঁর সঙ্গে গেলে তাঁকে তৃণমূলের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিতে হত। তার পর উপনির্বাচনে লড়তে হত।
সে যাক। শীলভদ্রবাবু যে একুশের আগে তৃণমূল ছাড়তে পারেন সে কথা তিনি নিজেই ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের প্রতিনিধিরা দেখা করতে গেলে বলেছেন, রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে কথা বলব। আবার গত সপ্তাহে খাদ্যমন্ত্রী তথা উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দেখা করতে গেলে, তাঁকে এক ঘন্টা বসিয়ে রাখেন। কিন্তু দেখা করেননি।
সূত্রের মতে, শীলভদ্র বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। হয়তো এক জন বড় নেতার বিজেপিতে যোগদানের অপেক্ষা চলছে। তা ছাড়া তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে তিনি এও বলছেন, তৃণমূলের টিকিটে আর ভোটে দাঁড়াব না। কিন্তু রাজনীতি ছাড়ব না। তাঁকে অনেকে কৌতূহলে জিজ্ঞেস করেছিলেন, দাদা কোন দলে যাবেন? পুরনো দল কংগ্রেসে? জবাবে তিনি নাকি বলেছেন, ওরা কি পারবে এদের হারাতে? যারা পারবে সেখানেই যাব।