দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুভেন্দু অধিকারী, কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরী, জিতেন্দ্র তিওয়ারি, প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পর এবার ব্যারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে দলের প্রথমিক সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে শীলভদ্রের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। প্রশান্ত কিশোরের টিম তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল। লাভ হয়নি। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও গিয়েছিলেন শীলভদ্রকে বোঝাতে। দেখাই করেননি। এবার দল ছেড়ে দিলেন তিনি।
এবার কী করবেন?
এ ব্যাপারে শীলভদ্র দত্ত জানিয়েছেন তিনি এখনও কিছু ঠিক করেননি। তবে তাঁর অফিসের ভোল বদলে গিয়েছে রাতারাতি। জোড়া ফুল সরে গিয়ে গেরুয়া ব্যানারে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি। অনেকে বলছেন, ইঙ্গিত স্পষ্ট।
গত এক-দেড় মাসে শীলভদ্রবাবুকে একাধিকবার মুকুল রায়ের সল্টলেকের বাড়িতে দেখা গিয়েছে। বহুদিন ধরেই শীলভদ্র মুকুলবাবুর ঘনিষ্ঠ। অনেকের মতে, বোঝাই যাচ্ছিল এটা হবে।
অন্যদিকে পুরুলিয়াতেও তৃণমূলে ভাঙন। দল ছাড়লেন রঘুনাথপুর পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান ভবেশ চট্টোপাধ্যায়। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অনুগামী বলে পরিচিত তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা। সম্প্রতি পুরুলিয়ায় শুভেন্দুর দুটি সভাতেও হাজির ছিলেন রঘুনাথপুর পুরসভার প্রাক্তন পুর প্রধান। বছরখানেক আগে দলের সঙ্গে মতান্তরের জেরে তাঁকে পুর প্রধানের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।
কার্যত তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে জেলায় জেলায়। বিধায়ক, জেলা পরিষদের সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, ব্লক সভাপতি জেলায় জেলায় চলছে ইস্তফা। অনেকের মতে, এঁরা সবাই হয়তো তাকিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর দিকে। দেখা যাচ্ছে শুভেন্দু দল ছাড়ার পরেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।