
শেষ আপডেট: 10 March 2023 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: আরও এক তৃণমূল নেতাকে নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার করেছে ইডি। তিনি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় (Shantanu Banerjee)। হুগলি (Hooghly) জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শান্তনুও কুন্তল ঘোষের মতোই বলাগড়ের ছেলে। এখন কৌতূহল, কীভাবে রাজনীতিতে উত্থান (Rise) হয়েছিল এই শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
শান্তনুর বাবা ছিলেন বিদ্যুৎ দফতরের কর্মী। সাধারণ এক সরকারি কর্মচারীর ছেলের জীবন যেমন হওয়া উচিত তেমনই ছিল। জিরাটের বিজয় কৃষ্ণ মহাবিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। তারপর জিরাট বাসস্ট্যান্ডে এনজি ঘোষ মার্কেটে একটি কসমেটিক্স, মোবাইল রিচার্জের দোকান খোলেন ২০০৫-০৬ সাল নাগাদ।
কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। বাবা তখনও কর্মরত ছিলেন। সেই চাকরিটাই পান শান্তনু। বিদ্যুৎ দফতরে চাকরি পাওয়ার পর থেকেই হঠাৎ করে রাজনীতির ময়দানে উদয় হন তিনি। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠা পান ব্লকে।
একটা সময়ে যুব তৃণমূলের পাশাপাশি যুবা নামের আর একটি সংগঠন চালু করেছিল শাসকদল। সেই সময়ে যুব তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর যুবার সভাপতি করা হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
ওই পর্বে যুবার জেলা সভাপতি হয়েছিলেন শান্তনু। তারপর যুব আর যুবা যখন মিশে গেল, তখন শান্তনু হন যুব তৃণমূলের হুগলি জেলার সভাপতি। সেই সময় থেকেই তাঁর দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। বহু জায়গায় মাদারের সঙ্গে যুবর সংঘাত ছিল হুগলির রাজনীতির রোজকার ঘটনা। শান্তনুর বাহিনী কার্যত তটস্থ করে রেখেছিল মূল পার্টিকে। এ নিয়ে দলের নেতাদের ক্ষোভও ছিল। হুগলি তৃণমূলের এক নেতা বলেন, সেই সময়ে শান্তনুর এতটাই দাপট যে, কেউ তাঁকে ঘাঁটানোর সাহস পেত না।
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে তারকেশ্বর থেকে জেলা পরিষদের সদস্য হন শান্তনু। দায়িত্ব পান জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষের। সম্প্রতি জিরাটে হাইওয়ের ধারে দ্য স্পুন নামের একটি ধাবাও খুলেছিলেন এই তৃণমূল নেতা।
বর্তমানে চন্দননগরের বড়বাজারে থাকেন। বড়তলা সায়নী আবাসনে ফ্ল্যাট রয়েছে শান্তনুর। তাঁর স্ত্রী ও এক ছেলে রয়েছে। জেলার রাজনীতিতে কার্যত উল্কাগতিতে উত্থান হয়েছিল শান্তনুর। সেই তাঁকেই সপ্তম বার জেরার পরে শুক্রবার গ্রেফতার করল ইডি।
শান্তনুর ছবি সরিয়েছিলাম জিরাট কলেজ থেকে, তখন আমায় খারাপ বলেছিল: মনোরঞ্জন ব্যাপারী