দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় যেমন কাক ও তালের প্রবাদ রয়েছে, হিন্দিতে আসমান ও খেজুরের ব্যাপারটা তেমনই!
কিন্তু এর মধ্যে অমিত শাহ এলেন কোথা থেকে? বিজেপি সভাপতি ও সিবিআই-য়ের সম্পর্কই বা কী?
এ মাসের ২৬ তারিখ কলকাতা সফরে আসছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। লোকসভা ভোটের জন্য দলের রাজ্য সংগঠন কতটা প্রস্তুত তা খতিয়ে দেখতে দু’দিন দিলীপ ঘোষদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সম্প্রতি পুরুলিয়ার বলরামপুরে নৃশংস ভাবে বিজেপি-র এক কর্মী খুন হয়েছেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গেও দেখা করতে যাওয়ার কথা তাঁর।
বাংলার রাজনীতির উঠোনে অমিতের সম্ভাব্য এই সফর নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখনই জানা গিয়েছে মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতায় আসছেন সিবিআই-য়ের বিশেষ অধিকর্তা রাকেশ আস্থানা। সূত্রের খবর, সারদা সহ চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারি ও নারদ কাণ্ডের তদন্তে কতদূর অগ্রগতি হয়েছে, এ ব্যাপারে আদালত কী ভাবে পদক্ষেপ করা হবে তা নিয়েই মূলত এজেন্সির আঞ্চলিক অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।
হতেই পারে ব্যাপারটা কাকতালীয়। অমিত ও আস্থানার কলকাতা সফরের মধ্যে কোনও যোগ নেই। কিন্তু রাজনীতির মন বরাবরই সন্দেহপ্রবণ। এবং তাই রাজ্য রাজনীতির অনেকেই মনে করছেন, অমিত শাহ-র সফরের আগে আবহ তৈরি করতেই সিবিআই কর্তার এই আচমকা সফর! সারদা সহ চিটফান্ড দুর্নীতি এবং নারদ কাণ্ড নিয়ে তদন্তের পরিণতি আশা করে বিজেপি কর্মীরা যাতে উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন।
প্রায় চার বছর আগে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশের প্রেক্ষিতে সারদা সহ চিটফান্ড কাণ্ডে সিবিআই তদন্ত চলছে। একই ভাবে প্রথমে হাইকোর্ট ও পরে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে নারদ কাণ্ড নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় এই তদন্ত এজেন্সি।
তবে আপাতদৃষ্টিতে আম ধারনা হল, মাঝে মধ্যেই ঝিমিয়ে ও ঘুমিয়ে পড়ে এই তদন্ত। যেমন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সারদা কাণ্ডে সিবিআই তদন্ত শুরু করার দশ মাসের মধ্যেই যাবতীয় তৎপরতা দৃশ্যত থেমে গিয়েছিল। যুদ্ধবিরতিতে যেমন হয়। আবার ২০১৬ সালের শেষ দিকে হঠাৎ যেন চিট ফান্ড ও নারদ কাণ্ডের তদন্ত শীতঘুম থেকে উঠে আসে। রোজভ্যালি কাণ্ডে প্রথমে গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল সাংসদ তাপস পালকে। পরে ওই একই মামলায় গ্রেফতার হন লোকসভায় তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ভুবনেশ্বর জেল হেফাজতে রাখা হয় তাঁকে। অন্যদিকে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই-য়ের আঞ্চলিক দফতরে নারদ কাণ্ডে জেরার জন্য একের পর এক ডাকা শুরু হয়ে যায় তৃণমূলের মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়কদের। এমনকী মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়কেও ডেকে জেরা করে সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
কিন্তু তার পর যে কে সেই। গত ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে সিবিআই বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কোনও সাড়া শব্দ নেই। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সুদীপবাবু এবং তাপসবাবু দু’জনেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। উপরি চিটফাণ্ড ও নারদ কাণ্ডে অন্যতম অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে সেই প্রাক্তন তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ই এখন রাজ্য বিজেপি-র ‘বড়’ নেতা।
তুলনায় দেখা যাবে পশুখাদ্য মামলায় শুনানি থেকে শুরু করে এয়ারটেল ম্যাক্সিস কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের বিরুদ্ধে তদন্তে সিবিআই এবং ইডি-র তদন্তে ক্ষীপ্রতায় কোনও ত্রুটি নেই। প্রায় ঘন ঘন জেরা করা হচ্ছে চিদম্বরম ও তাঁর ছেলে কার্তিকে।
সিবিআই-য়ের বিশেষ অধিকর্তার কলকাতা সফর নিয়ে ইতিমধ্যে সমালোচনায় মুখ খুলেছে তৃণমূল। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “প্রতিটি ভোটের আগে বিজেপি-র একবার করে সিবিআই তদন্তের কথা মনে পড়ে। ২০১৪ ও ২০১৬-র ভোটের আগেও তাই হয়েছিল। লোকসভা ভোট আসছে, তাই আবার প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু হয়েছে।”
যদিও রাজ্য বিজেপি-র উপরের সারির নেতা শমীক ভট্টাচার্য এই অভিযোগ খারিজ করে দেন। তাঁর কথায়, “বাংলার রাজনীতিতে সারদা ও সিবিআই নিয়ে একটা রোম্যান্টিসিজম রয়েছে। বিজেপি যদি রাজনৈতিক ভাবে সত্যিই সিবিআইয়ের অপব্যবহার করত, তা হলে বাংলা-র বিধানসভার ভিতরের ছবিটা অন্যরকম হত।”
তবে সিপিএম ও কংগ্রেসের বক্তব্য একেবারেই অন্যরকম। আবদুল মান্নান-সুজন চক্রবর্তীদের মতে তদন্তের নামে প্রহসন চলছে। আসলে বোঝাপড়া রয়েছে বিজেপি-তৃণমূলে। তদন্তের ব্যাপারটা একেবারেই নাটক ও লোক দেখানো।