দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: মধুচক্রের খোঁজে কোন্নগর পুরসভার গেস্টহাউসে অভিযান চালালো সিআইডি। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় আট মহিলা ও চারজন পুরুষকে। উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন নাবালিকাকে। বুধবার রাতে সিআইডির দশ সদস্যের একটি দল হঠাৎই হানা দেয় এই গেস্ট হাউসে। দীর্ঘদিন ধরে কোন্নগর স্টেশন লাগোয়া এই গেস্ট হাউসে দেহ ব্যবসা চলত বলে অভিযোগ করছিলেন বাসিন্দারা।
সূত্রের খবর, দালাল মারফত গ্রাহক জোগাড় হত এখানে। সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে তরুণীদের ছবি পাঠানো হতো গ্রাহকদের। পছন্দ হলেই টাকার বিনিময়ে চলে আসত গ্রাহক। জানা গেছে তারকেশ্বর, শেওড়াফুলি, বৈদ্যবাটি সহ বিভিন্ন এলাকার থেকে তরুণীরা আসতো এখানে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পুরসভাকে অভিযোগ জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি।
পুরসভার চেয়ারম্যানের বাপ্পাদিত্য চ্যাটার্জী অবশ্য দাবি করেছেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। বছর দুয়েক আগে গেস্ট হাউসটি স্থানীয় এক ব্যবসায়ী শ্যামল মণ্ডলকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। ঘটনা জানার পরেই ওই লিজ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এলাকার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল বলেন, "যা হয়েছে তা খুবই নিন্দনীয়, গেস্ট হাউস লিজে ছিল। এমন ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশকে বলেছি কড়া ব্যবস্থা নিতে।" স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর ও পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, "অনেকদিন ধরেই চলছে। বলার সাহস নেই কারও। পুরসভাতেও অনেক অনৈতিক কাজ চলছে। বলতে গেলে মারধর করা হয়। ভয়ে কেউ মুখ খোলে না।"
গেস্ট হাউসের ম্যানেজার সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। শ্যামল মণ্ডলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গেস্ট হাউসটিকে সিল করে দেন সিআইডির গোয়েন্দারা।