
শেষ আপডেট: 7 April 2023 08:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোথাও সাত সকালে। কোথাও বা বেশ রাতে। কোনও ঘটনা আবার জনারণ্যের মাঝে কিংবা নির্জন বাঁশ বাগানের মধ্যে কোনও রাস্তায়, বা বাড়িতে ঢুকে। কোনওটা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিতে ঝাঝরা করে দিয়ে, আবার কোনওটা কুপিয়ে কিংবা বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে। খুনের কায়দা, উদ্দেশ্য, জায়গা ভিন্ন হলেও পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে এই তিন মাস সাত দিনে বাংলার উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত সাত (7) জন শাসকদলের (TMC) নেতানেত্রী খুন হলেন।
শুক্রবার সকাল থেকে শীতলকুচি (Shitalkuchi) ও হাঁসখালির (Hanskhali) ঘটনা নিয়ে রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। কিন্তু এও দেখা যাচ্ছে, হাঁসখালি বা শীতলকুচি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং ধারাবাহিকতার অংশ।
৪ জানুয়ারির ঘটনা। ইংরাজি নতুন বছর, শীতকাল, পিকিনিক মরশুম—সব মিলিয়ে উৎসবের মেজাজেই ছিল গোটা রাজ্য। একদল ছেলে পিকনিক করে ফিরছিল ডিজে বাজিয়ে। তারপর মালদহের মোথাবাড়ি এলাকায় ম্যাটাডোর থামিয়ে চলছিল ডিজে বাজিয়ে নাচ। স্থানীয় তৃণমূল নেতা আফজল মোমিন শব্দ তাণ্ডবের প্রতিবাদ করেছিলেন। মদ্যপ সেই তরুণদল বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে ঘটনাস্থলেই মেরে ফেলেছিল আফজলকে।
ওই জানুয়ারি মাসেরই ২৪ তারিখ দলের কাজ সেরে রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ মোটর সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আলতাব আলি। একটি নির্জন জায়গায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে ঝাঝরা করে দেওয়া হয় তাঁকে।
এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে খুন হয়ে যান তৃণমূলের বুথ সভাপতি সাধন মণ্ডল। দিনমজুর সাধন কাজটাজ সেরে বাড়ি ফেরার পর পাড়ার চায়ের দোকানে গিয়ে বসেছিলেন। সেখানেই তাঁকে এসে গুলি করে মেরে দিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
এরপর ভয়াবহ কাণ্ডটি ঘটে গত ৩০ মার্চ। পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার তৃণমূল পার্টি অফিসে বৈঠক চলছিল। সেই বৈঠকেই নাম নিয়ে দলের দুই গোষ্ঠীর বিবাদ চরমে ওঠে। তারপর পকেট থেকে বেরিয়ে পড়ে বন্দুক। তা থেকে চলে যায় গুলিও। একসঙ্গে দু’জন খুন হয়ে যা চোপড়ায়। একজন ঘটনাস্থলেই। অন্যজন হাসপাতালে কিছুক্ষণ পাঞ্জা লড়ার পর।
তারপর আজ শুক্রবার শীতলকুচিতে তৃণমূল নেত্রী নীলিমা বর্মনের বাড়িতে ঢুকে তাঁকে, তাঁর দুই মেয়ে ও স্বামীকে এলোপাথাড়ি কুপোতে থাকে দুষ্কৃতীরা। নীলিমা, এক মেয়ে ও স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। ছোট মেয়ে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি। জানা গিয়েছে, ছোট মেয়ের সঙ্গে এক যুবকের প্রেমে বাধা দেওয়ার কারণেই এই হামলা এবং কুপিয়ে খুন।
শীতলকুচির ঘটনা মর্মান্তিক, হাড়হিম করার মতো ব্যাপার। কিন্তু সেই রেশ কাটতে না কাটতেই শোনা যায় হাঁসখালির ঘটনা। ভরা বাজারে চায়ের দোকানে বসে থাকা তৃণমূল নেতা আহমেদ আলি বিশ্বাসকে গুলি করে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। তারা বাইকে চড়ে আসে, গুলি চালায়, মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মুখে কাপড় বেঁধে পালিয়েও যায়।
এই সাত খুনের ঘটনা ছাড়াও একাধিক শাসকনেতার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা রয়েছে। তাছাড়া অস্ত্র উদ্ধার, বোমা পাওয়া যাওয়ার ঘটনাও নতুন নয়। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। তবে এই একের পর এক শাসকনেতার খুনের ঘটনা পঞ্চায়েতের আগে তৃণমূলের মধ্যেও উৎকণ্ঠা তৈরি করছে বলে মত অনেকের।
তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের সংসার চলে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে, সঙ্গী সাইকেল