দ্য ওয়াল ব্যুরো: একের পর এক শিশু মৃত্যুর খবর আসছে উত্তরবঙ্গ থেকে। জ্বরের (Fever) প্রকোপ তো ছিলই, সেই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, অ্যাকিউট রেসপিরেটারি ইনফেকশন (এআরআই), ভাইরাল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে। জ্বর, পেটে ব্যথার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ৫০ জন। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফের ছয় শিশুর মৃত্যুর খবর মিলেছিল। আজ ফের খারাপ খবর এল উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে। গত ২৪ ঘণ্টায় জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও সাত শিশুর।
সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে গত এক সপ্তাহে দশ জনেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার সঞ্জয় মল্লিক জানিয়েছেন, এআরআই অর্থাৎ শ্বাসজনিত সংক্রমণ নিয়ে এখন হাসপাতালে বেশি ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। জ্বরের সঙ্গে শ্বাসের সমস্যা দেখা যাচ্ছে অনেকের। রেসপিরেটারি ভাইরাসের সংক্রমণে শ্বাসকষ্ট বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। গতকালই জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল সুপ্রিয়া দাস নামে এক শিশুকন্যা। কোচবিহারের বাসিন্দা। বয়স মাস ছয়েক। বাচ্চাটির মৃত্যু হয়েছে। বাকি ছ'জনের শরীরে আরও নানা উপসর্গ ছিল। এরা প্রত্যেকেই কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল সুপার জানাচ্ছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি ও মালবাজার থেকে শিশুরা ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। জ্বর, সর্দি-কাশি, পেটে ব্যথা ও শ্বাসের সমস্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে।
জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সংক্রমণের মোকাবিলা করতে 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর' প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্যভবন। কোন জেলায় শিশুরা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, সংক্রমণের হার কতটা বেশি, জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিস্থিতি কেমন সব খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার এর মধ্যেই একটি কমিটি তৈরি করেছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, পালমোনোলজিস্ট, কমিউনিটি মেডিসিন, সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সেই কমিটি তৈরি হয়েছে। এই কমিটির বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই শিশুদের জন্য ওই গাইডলাইন তথা 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর' প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-এ ও টাইপ-বি ও রেসপিরেটারি সিনসিটিয়াল ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি হচ্ছে। ফলে জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে অনেক শিশুর। তাছাড়া স্ক্রাব টাইফাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায়। স্ক্রাব টাইফাস ব্যাকটেরিয়া এক ধরনের উকুন থেকে ছড়ায় এর নাম ‘ট্রম্বিকিউলি়ড মাইটস’। এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে ধূম জ্বর, সঙ্গে বমি, পেট খারাপের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এখন বাচ্চাদের জ্বর হলেই গায়ে ব্যথা, বমি, পেশির খিঁচুনি ও শ্বাসের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'