দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্ত্রে শান দেওয়া হয়েছে। সেই সব অস্ত্র নিয়ে তাঁরা জঙ্গলে বেরোবেন। দোলের আগেই হই হই করে শুরু হয়ে যাবে শিকার উৎসব। প্রতিবার তাই হয়। কিন্তু, এ বারে হয়তো ভিন্ন ছবি দেখা যেতে পারে উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে জঙ্গলে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে গেছে কড়া নজরদারি। শিকার উৎসবের নামে বন্যপ্রাণ হত্যা আর নয়। পশু শিকারে লাগাম পরাতে তাই বেশ কোমর কষেই নেমে পড়েছেন বন দফতরের কর্তারা।
দোলের আগে থেকেই পশু শিকারের নেশায় মেতে ওঠেন আদিবাসী যুবকরা। বংশপরম্পরায় এমনটাই চলে আসছে বছরের পর বছর। পুলিশি প্রহরা, ধরপাকড় সত্ত্বেও পুরনো এই প্রথা বন্ধ করা যায়নি। অথচ বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের জন্য আইন যথেষ্টই কড়া। বনকর্মীরা জানিয়েছেন, আইন এবং নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেন না আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। নজর এড়িয়েও চোরা পথে চলে শিকার।
উৎসবের নামে শিকার বন্ধ করতে তাই আজ, ১৮ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত জঙ্গলে ঢোকার রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বনকর্মীরা। জঙ্গল ঘিরে চলবে পুলিশি টহলদারি। বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করেও থাকবেন বন দফতরের আধিকারিকরা। সেই শিকার বন্ধ করার জন্য গ্রামে গ্রামে সঙ্গে চলবে প্রচার।
বন দফতরের কর্তারা জানাচ্ছেন, অনেক সময় দেখা যায় শিকার উৎসবে ভিন রাজ্যের আদিবাসীরাও জলদাপাড়ায় এসে শিকার করেন। এই ব্যাপারেও গ্রামের মানুষদের সজাগ করছেন তাঁরা। বেশির ভাগ সময়েই শিকার হয় পিকনিকের জন্য। সকাল থেকে কেউ কাঁধে তির-ধনুক, কেউ টাঙ্গি, বল্লম নিয়ে জঙ্গলে আসতে শুরু করেন। তারপর যথেচ্ছ ভাবে চলে পশু নিধন।
লঙ্কাপাড়া রেঞ্জ অফিসার বিশ্বজিৎ বিশয়ী বলেছেন, ‘‘শিকার উৎসব বলে কিছু হয় না। আমাদের বুঝতে হবে পরিবেশের জন্য বন্যপ্রাণ অপরিহার্য। এই সময়ে যদি কাওকে জঙ্গলে প্রবেশ করতে দেখা যায়, তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।’’ এমনকি শিকার করতে দেখা গেলে বা ধরা পড়লে অভিযুক্তের ৩ থেকে ৭ বছরের জেলও হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, পশুপাখি মারাটা প্রথা হতে পারে না। এতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রশ্নের মুখে পড়ে। পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগও মার খায়। তাঁর কথায়, ‘‘গ্রামে গ্রামে সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। আমার আবেদন দোলে সকলে আনন্দ করুন, কিন্তু জঙ্গলে ঢুকবেন না।’’