ফেসবুকে অশালীন ছবি, লজ্জা-অপমানে আত্মঘাতী ছাত্রী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেসবুকে ভুয়ো একাউন্ট খুলে তাতে অশালীন ছবি পোস্ট করায় লজ্জা ও অপমানে আত্মঘাতী হলেন দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী, তাঁর বয়স ১৯ বছর। ছাত্রীর বাবা এই অভিযোগ করেছেন। ওই ছাত্রীর বাড়ি নদিয়ার ধানতলা থানা এলাকায় পুরাতন চাপড়ায়। তিনি রান
শেষ আপডেট: 23 December 2019 07:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেসবুকে ভুয়ো একাউন্ট খুলে তাতে অশালীন ছবি পোস্ট করায় লজ্জা ও অপমানে আত্মঘাতী হলেন দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী, তাঁর বয়স ১৯ বছর। ছাত্রীর বাবা এই অভিযোগ করেছেন। ওই ছাত্রীর বাড়ি নদিয়ার ধানতলা থানা এলাকায় পুরাতন চাপড়ায়। তিনি রানাঘাট কলেজের ছাত্রী।
ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, মাস ছয়েক আগে সোশ্যাল মিডিয়া সাইট ফেসবুকে অভিজিৎ রায় ওরফে শুভেন্দু নামে কোনও এক যুবকের সঙ্গে ছাত্রীটির আলাপ হয়। তারপর তাঁদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথমে তাঁদের সম্পর্কের কথা কেউই জানত না।
এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হলে, সেই সুযোগে ওই ছাত্রীর একান্ত কয়েকটি ছবি তুলে রাখে অভিযুক্ত যুবক। সম্প্রতি বেশ কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। তাতেই ক্রোধের বশে ওই ছাত্রীকে জব্দ করার জন্য একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে অশালীন ছবিগুলি পোস্ট করে অভিযুক্ত। সে কথা জানতে পেরেই লজ্জায় ও অপমানে রবিবার সকালে আত্মঘাতী হন ওই ছাত্রী। বাড়ির রান্নাঘরে গিয়ে নিজের ওড়না গলায় দিয়ে তিনি আত্মঘাতী হন।

ওই ছাত্রীর বাবা সকালে বাজার থেকে ফিরে এসে রান্নাঘরে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। আচমকা এই দৃশ্য দেখে চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। তাঁরাই তড়িঘড়ি নিয়ে যান রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা ওই ছাত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় ধানতলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মৃত ছাত্রীর বাবা। তবে অভিযুক্তের বাড়ি কোথায়, তাঁর পরিচয় কী, বয়স কত – এসব কিছুই জানাতে পারেননি ছাত্রীর বাবা। তিনি শুধুমাত্র অভিযুক্তের নাম জানাতে পেরেছেন। ছাত্রীর বাবা ও পরিবারের অন্যরা মনে করেন, ছবিগুলি মর্ফ করা, অন্যের ছবিতে তাঁদের মেয়ের মুখ বসিয়ে দিয়েছিলেন অভিযুক্ত যুবক।
অভিযোগ পেয়েই তদন্ত শুরু করেছে ধানতলা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের সঙ্গে ওই ছাত্রীর আলাপ ফেসবুকে হয়েছিল বলে আগে সেটিই ভাল ভাবে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে ছাত্রীর মোবাইল ফোনের কল লিস্ট খতিয়ে দেখা হবে।
ওই ছাত্রীর আচমকা এ ভাবে মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর কয়েকজন বন্ধু। পরিবারের লোকজনও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। মা-বাবার তিনিই একমাত্র মেয়ে, তাই মধ্যবিত্ত পরিবারের সব স্বপ্নই ছিল তাঁকে ঘিরে। এলাকার লোকজন শোকস্তব্ধ।