নকীবউদ্দীন গাজী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এ বার বর্ষা এসে গেছে ঠিক সময়ে। নিয়ম মেনেই হয়েছে প্রাক বর্ষার ধারাস্নান। এমন পূবালি হাওয়া আর মিঠে বৃষ্টিতেই যে নোনা জল দ্রুত সরে মোহনা থেকে। মিঠে জলের টানে ঝাঁকে ঝাঁকে ধেয়ে আসে রুপোলি ইলিশ। তাই মৎস্যজীবীদের মুখের হাসি চওড়া হচ্ছে আরও।
বিভিন্ন খাঁড়িতে ইতিমধ্যেই রঙ বদলও যে নজরে এসে গেছে তাঁদের। বহুদিনের অভিজ্ঞতায় তাঁরা জানেন, ইলিশের ঝাঁক ঢুকলেই নীল দেখায় খাঁড়ির জল। সেই নীল নজরে আসতেই আনচান করছেন কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা, গঙ্গা সাগর, কুলতলি, ডায়মন্ডহারবারের মৎস্যজীবীরা। তাঁদের অনেকেই বলছেন, “এ বার আর ইলিশের খোঁজে সপ্তাহ কাটাতে হবে না। দু তিন দিনেই ভরে যাবে ট্রলার।” কিন্তু মোহনায় পাড়ি জমানোর জন্য যে এখনও বাকি দু দিন।
মাছের প্রজননের সময়। তাই মার্চের শেষ থেকে ১৫ ই জুন পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা থাকে মৎস্যজীবীদের। সরকারি নিয়ম মেনে শুক্রবার ভোরে ইলিশের খোঁজে ট্রলার ভাসাবেন। আবহাওয়ার কারণেই বেশি ইলিশ মিলবে, ইতিমধ্যেই এমন আভাস পেয়ে গিয়েছেন তাঁরা। তাই জোরকদমে সমুদ্রযাত্রার প্রস্তুতি চলছে। এ বার তেলের দামবৃদ্ধি ট্রলার মালিক ও মৎস্যজীবীদের চিন্তায় ফেলেছে। তবুও মনের আশা নিয়ে মাঝ সমুদ্রে যাওয়ার জন্য খাবার, জল, বরফ, তেল সব গোছানোর কাজ চলছে। এই এলাকা থেকে সরকারি অনুমোদিত প্রায় ২৫০০ বেশি ট্রলার গভীর সমুদ্রে রওনা দেবে।
শেষমুহূর্তের ব্যস্ততায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, আক্ষেপ। “আহা এমন ইলিশের ঢল। যদি দু দিন আগেই রওনা হওয়া যেত। তাহলে স্টোরের ইলিশ নয়, জামাইদের পাতেও তুলে দেওয়া যেত মোহনার টাটকা ইলিশ।”