
শেষ আপডেট: 9 August 2018 12:51
এ দিন রাজ্যের সবকটি জেলায় এই কর্মসূচিতে নেমেছিল সিপিএমের শ্রমিক-কৃষক সংগঠন। গণফ্রন্টের ডাকা কর্মসূচি হলেও সামগ্রিক ভাবে গোটা দলই এতে মনোনিবেশ করেছিল। পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলেও এ রাজ্যে বামেরা তিন নম্বর জায়গায়। শাসক দলের পরই দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে গেরুয়া শিবির। প্রসঙ্গত, তৃণমূল-বিরোধী ভোট একত্রিত হচ্ছে বিজেপির বাক্সে আর সাম্প্রদায়িকতা-বিরোধী ভোট বাংলায় চলে যাচ্ছে তৃণমূলের বাক্সে। ফলে রাজনৈতিক ভাবে চরম সঙ্কটের সময় ‘জেল ভরো’তেই সমগ্র শক্তি ঢেলেছিল সিপিএম।
[caption id="attachment_25919" align="alignnone" width="720"]
হুগলির পুলিশ সুপারের দফতরের সামনের রাস্তা[/caption]
রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ সব জেলাতেই এই কর্মসূচিতে জঙ্গি মেজাজে দেখা গেল সিপিএম নেতাকর্মীদের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রায় সাড়ে তিন দশক ক্ষমতায় থাকার ফলে বিরোধী আন্দোলন কেমন করে করতে হয় তার আদব কায়দাই এই প্রজন্মের অনেক নেতার জানা নেই। ইস্যু পেলেও তাকে কাজে লাগাতে পারেনি আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু বৃহস্পতিবারের বারবেলার এই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক লক্ষ্মীলাভ হলো বলেই দাবি বামনেতাদের একাংশের।
[caption id="attachment_25921" align="alignnone" width="960"]
উত্তর চব্বিশ পরগণার আইন অমান্য [/caption]
একাধিক জেলায় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আইন অমান্য করলেন বাম কর্মী-সমর্থকেরা। সূর্যকান্ত মিশ্রকে দেখা গেল কলকাতায় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, শাসক দলের কর্মীরা তাঁদের মিছিলে হামলা চালায়। হাওড়া জেলার এক সিআইটিইউ নেতার কথায়, যে ধরনের জমায়েত আশা করা হয়েছিল সব জেলাতেই তার থেকে অনেক ভাল জমায়েত হয়েছে।
[caption id="attachment_25922" align="alignnone" width="960"]
রাজভবনের গেটে বামকর্মীরা[/caption]
প্রসঙ্গত বেশ কিছু জায়গায় চোরাগোপ্তা আন্দোলন করে সিপিএমের ছাত্র-যুবরা। কলকাতায় মূল মিছিল যখন রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে, ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড করে সেই মিছিল আটকাতে কোমর বেঁধেছে পুলিশ সেই সময়ই জনা বিশেক বাম কর্মী ঘুরপথে পৌঁছে যায় রাজভবনের গেটে। পুলিশকে কার্যত দৌড়তে হয় তাঁদের পিছনে। পরে এসএফআই রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টচার্য, ডিওয়াইএফআই নেতা ইন্দ্রজিৎ ঘোষ-সহ একাধিক বাম কর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় লালবাজারে। একই কায়দায় পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা শাসকের দফতরে ঘুর পথে ঢুকে দফতরের ছাদে উঠে লাল ঝাণ্ডা টাঙিয়ে দেয় বাম কর্মীরা। পরে পুলিশ ওই পতাকা নামিয়ে দেয়। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদা,হুগলি সর্বত্রই এ দিন আন্দোলনে নামে বামেরা।
[caption id="attachment_25929" align="alignnone" width="960"]
রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ [/caption]
উত্তর ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে যেখানে কৃষক সভার শক্তি রয়েছে সেখানেও আন্দোলনে নামে বামেরা। ত্রিপুরায় সরকার বদলের পর এই প্রথম বড় আন্দোলনে নামল সিপিএম। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ, জলকামান সবই চলল আগরতলায়। বিপ্লব দেবের পুলিশ প্রশাসনের জলকামানে ভিজে গেলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও। পরে গ্রেফতার করা হয় মানিক সরকার-সহ অসংখ্য বাম কর্মীদের।
[caption id="attachment_25930" align="alignnone" width="626"]
ত্রিপুরায় মানিক সরকার [/caption]
ইতিমধ্যেই একুশের মঞ্চ থেকে ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিজেপি। যদিও পূর্ব ঘোষিত তারিখ বদল হতে পারে বলে জানিয়েছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু দিদির ব্রিগেডের আগে-পরেই হবে মোদীর ব্রিগেড। বামেরা কী করবে লোকসভা নির্বাচনের আগে? অনেকের মতে, ভেঙে যাওয়া সংগঠনের চেহারা দেখে নিয়ে পা ফেলতে চেয়েছিলেন সিপিএম নেতারা। ১৩ তারিখ আলিমুদ্দিনে বসবে জরুরি রাজ্য কমিটির অধিবেশন। সেখান থেকে সিপিএম কী কর্মসূচি গ্রহণ করে এখন সেটাই দেখার।