একঘরে মৃতদের পরিবার, স্ক্রাব টাইফাসের আতঙ্ক কাটাতে গ্রামে স্বাস্থ্য আধিকারিকরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ক্রাব টাইফাসের আতঙ্কে কাঁপছে জলপাইগুড়ির খরিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের ব্রহ্মতলপাড়া। আতঙ্কে একটি পরিবারকে কার্যত একঘরে করে দিয়েছেন এলাকার লোকজন। সেই আতঙ্ক কাটাতে গ্রামে গেলেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। কয়েক দিনের মধ্যে যে দু’জনের মৃত্য
শেষ আপডেট: 30 December 2019 13:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ক্রাব টাইফাসের আতঙ্কে কাঁপছে জলপাইগুড়ির খরিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের ব্রহ্মতলপাড়া। আতঙ্কে একটি পরিবারকে কার্যত একঘরে করে দিয়েছেন এলাকার লোকজন। সেই আতঙ্ক কাটাতে গ্রামে গেলেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। কয়েক দিনের মধ্যে যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের ডেথ সার্টিফিকেট দেখেন আধিকারিকরা। পরে তাঁরা জানান, স্ক্রাব টাইফাসে নয়, ওই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে সেপ্টিসেমিয়ায়।
জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (২) দেবাশিস সরকার নিজে যান ব্রহ্মতলপাড়ায়। তিনি জানান, এলাকায় সচেতনা বাড়ানো শুরু করেছেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা। এলাকায় এদিন স্বাস্থ্যকর্মীরা কীটনাশক স্প্রে করেছেন ও ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়েছেন।
দেবাশিস সরকার বলেন, “গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্যরা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আলোচনা করে খুব শীঘ্রই আমারা সচেতনতা বাড়ানোর কাজ শুরু করব। চিকিৎসকের দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেট অনুযায়ী ওই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে সেপ্টিসেমিয়ায়।”
ব্রহ্মতলপাড়ায় দাম পরিবারের দুই ভাইয়ের মৃত্যুর পরে এলাকায় রটে যায়, স্ক্রাব ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। অজানা জ্বরে মৃত্যুর পর থেকে ওই পরিবারকে কার্যত একঘরে করে দেন গ্রামের লোকজন।

১৫ ডিসেম্বর ডুয়ার্সে চা বাগানে বেড়াতে গিয়েছিলেন দোলন দাম। বাড়ি ফিরে আসার পর তার ঊরু লাল হয়ে একটি ফুসকুড়ি দেখা যায়। পরদিন সেই ফুসকুড়ি পুরো গায়ে ছড়িয়ে পড়ে, সেই সঙ্গে জ্বর আসে। স্ক্রাব টাইফাসের উপসর্গও তাই।
এরপর দোলনকে শুশ্রূষা করতে শুরু করেন তাঁর দাদা প্রদীপ দাম। তাঁরও ওই উপসর্গ দেখা দেয় বলে দাবি পরিবারের। দুই ভাই শিলিগুড়ি একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২৪ ডিসেম্বর রাতে মৃত্যু হয় তাঁদের মধ্যে একজনের। গতকাল সকালে মৃত্যু হয় অপর ভাইয়ের। তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামের লোকজন।
মৃতদের পরিবারের সদস্য দীপক দামের অভিযোগ, এলাকাবাসীরা তাঁদের বাড়িতে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন এমনকি শ্রাদ্ধকর্ম করার জন্য পুরোহিত পর্যন্ত রাজি হচ্ছেন না। গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য বিকাশ রায় বলেন, “সবার মনেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ওই বাড়িতে গেলে যদি তাঁদেরও কিছু হয়, এই আতঙ্কে তাঁদের বাড়িতে কেউ যাচ্ছেন না। কার্যত একঘরে অবস্থায় রয়েছে এই পরিবার।
এই অবস্থার কথা শুনে জলপাইগুড়ির (সদর) মহকুমাশাসক রঞ্জনকুমার দাস গতকালই জানিয়েছিলেন যে তাঁরা অবিলম্বে পদক্ষেপ করবেন, এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিদের পাঠাবেন। সেইমতোই সোমবার এলাকায় যান স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা। এলাকায় কীটনাশক ছড়ান। ওই দুই ভাইয়ের মৃত্যু যে স্ক্রাব টাইফাসে হয়নি, সেকথাও তাঁরা বলেন।