
শেষ আপডেট: 31 March 2022 08:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভাবের সংসার, ভিক্ষে করে দিন চলে। তাই বলে কি শখ-আহ্লাদ থাকতে নেই? নদিয়ার কৃষ্ণনগর পালপাড়া মোড়ের কাছে একটি মোটরসাইকেল শোরুমে বারবার চোখ চলে যেত যুবক রাকেশ পাঁড়ের। কবে হবে তার নিজের একটা স্কুটি? শেষমেশ পাশে দাঁড়ালেন ভিখারিণী মা! নিজের সমস্ত সঞ্চয় তুলে দিলেন ছোট ছেলের হাতে।
বুধবার বন্ধুদের নিয়ে রাকেশ সোজা হাজির সেই মোটর সাইকেল শোরুমে। সামনে বসিয়ে দিলেন দু'বস্তা কয়েন, বললেন গুনে দেখুন ৭০ হাজার আছে। সেই দেখে তো হতভম্ব কর্মচারীরা। কিন্তু কী আর বলবেন, মালিকের সঙ্গে বেশ খানিকক্ষণ ফোনাফুনির পর রাকেশকে তাঁর পছন্দমতো স্কুটি দেওয়া হল। তারপর কয়েন গুনতে বসে গলদঘর্ম কর্মচারীরা।
নদিয়ারই ভীমপুর গোবরাপোতা মাছবাজার এলাকায় মায়ের সঙ্গে থাকেন রাকেশ পাঁড়ে। জানা গেছে, রাকেশের বাবা ভুল্লুর পাঁড়ে তাঁর স্ত্রী আর দুই ছেলে রেখে মারা যান বহুদিন আগে। তারপর থেকে সংসার চালানোর খরচ জোগাড় করতে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিয়েছিলেন রাকেশের মা ধুলু পাঁড়ে।
তাঁর বড় ছেলে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতেই থাকে। বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ নেই বললেই চলে। তবে ছোট ছেলে রাকেশ মায়ের অত্যন্ত আদরের। কলকাতায় একটি হার্ডওয়ারের দোকানে কাজ করে রাকেশ। স্বল্প উপার্জনের টাকায় মোটরসাইকেলের শখ যে কোনওদিনও পূরণ হবে না, সে কথা ছেলে জানান মাকে। কিন্তু ছেলের মুখে হাসি ফোটাতে মাও তো কিছু করতে পারেন! না হয় হলেন ভিখিরি, এ পর্যন্ত জমানো দু'বস্তা একটাকার কয়েন তো আছে। সেটাই ছেলের তুলে দেন তিনি।
কিছুটা লজ্জিত হয়েই রাকেশ জানান, মায়েরও আসলে ইচ্ছে ছিল। ভাঙা ঘর আলো করে একটা স্কুটি অন্তত থাকুক!
কিশোরীকে দিনের পর দিন শারীরিক নির্যাতন! সৎ বাবাকে গলা টিপে মারল মা-মেয়ে