
শেষ আপডেট: 7 May 2023 06:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলে শিক্ষকতা করলে তাঁরা গৃহশিক্ষকতা করতে পারবেন না- এই আইন বহু বছরের। কিন্তু সেই আইনের ফাঁক গলে তাকে একপ্রকার বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলেছেন রাজ্যের সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা। স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি কোচিংও করাচ্ছেন। এই অভিযোগে আগেই মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। শনিবার সেই মামলার শুনানি শেষে হাইকোর্ট নির্দেশ দিল, যাঁরা এভাবে টাকার লোভে আইন ভাঙছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা (punish) গ্রহণ করতে হবে (Calcutta High Court on School teachers Private Tuition)।
স্কুল শিক্ষকদের গৃহ শিক্ষকতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালাচ্ছে প্রাইভেট টিউটরস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। সেই সংস্থার অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে বহু স্কুল শিক্ষক গৃহ শিক্ষকতা করছেন শুধুমাত্র টাকার লোভে। আর স্কুলের পড়ুয়ারাও ভাল রেজাল্ট হওয়ার আশায় তাঁদের কাছেই পড়তে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শক ও মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের সচিবের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
সম্প্রতি এই নিয়েই প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে প্রাইভেট টিউটরস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী এক্রামূল বারি বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ (অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কনফার্মেশন, কনডাক্ট অ্যান্ড ডিসিপ্লিন অফ টিচার্স অ্যান্ড নন টিচিং স্টাফ) আইন, ২০১৮-র ৪ (৬) নম্বর ধারায় স্পষ্ট বলা রয়েছে, স্কুল নিয়োগের পর কোনও শিক্ষক পয়সার বিনিময়ে অন্য কোথাও পড়াতে পারবেন না। এই নিয়মের পরেও বহু শিক্ষক দিনের পর দিন প্রাইভেট পড়াচ্ছেন।
ওই বর্ষীয়ান আইনজীবীর আরও দাবি, স্কুল শিক্ষকদের কাছে পড়ার ফলে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। কারণ, পড়ুয়া বা তাদের অভিভাবকরা ভাবছেন, স্কুল শিক্ষকদের কাছে টিউশন না পড়লে স্কুলে হয়তো ভাল নম্বর পাওয়া যাবে না। তাই যারা শুধুমাত্র গৃহশিক্ষকতা করে রোজগার করেন, তাঁরা ফাঁপড়ে পড়ছেন। এমনকী রাজ্যের তরফে জানানো হয়, নিয়ম অনুযায়ী স্কুলের শিক্ষকরা গৃহ শিক্ষকতা করতে পারেন না। কাজে যোগদানের আগে এই মর্মে শিক্ষকদের মুচলেকাও দিতে হয়।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ওই সংস্থার তরফে জমা পড়া সমস্ত অভিযোগ পর্ষদকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে হবে। যদি দেখা যায়, নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোনও স্কুলশিক্ষক প্রাইভেট টিউশন করছেন, তাহলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে এর পাশাপাশি আদালত আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষককেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
সম্মতিতে যৌনতা ধর্ষণ নয়, অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করল কলকাতা হাইকোর্ট