নাবালিকা ছাত্রীকে লাগাতার ধর্ষণ, হুমকি, অভিযুক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক
দ্য় ওয়াল ব্যুরো: স্কুলের পরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার নামে ছোট্ট মেয়েটার উপর দিনের পর দিন অমানবিক নির্যাতন চালাতেন স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক। অভিভাবকদের অভিযোগ এমনটাই। বারবার ধর্ষিতা হতে হয়েছে কিশোরীকে। শারীরিক নির্যাতনও চলেছে দিনের পর দিন। ঘটনা সামন
শেষ আপডেট: 30 January 2020 18:30
দ্য় ওয়াল ব্যুরো: স্কুলের পরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার নামে ছোট্ট মেয়েটার উপর দিনের পর দিন অমানবিক নির্যাতন চালাতেন স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক। অভিভাবকদের অভিযোগ এমনটাই। বারবার ধর্ষিতা হতে হয়েছে কিশোরীকে। শারীরিক নির্যাতনও চলেছে দিনের পর দিন। ঘটনা সামনে আসায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানা এলাকায়। আটক করা হয়েছে প্রধান শিক্ষককে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম আশুতোষ মণ্ডল। তিনি বসন্তপুর ঝাড়েশ্বর বাণীভবন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। আশুতোষবাবুর বাড়ি সবং থানার শ্যামসুন্দর গ্রামে। নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবারের দাবি, মেয়েটা স্কুলে যেতে ভয় পেত। সবসময় সিঁটিয়ে থাকত। কারণ জানতে চাইলে বলত না। পড়াশোনাতেও মনোযোগ কমেছিল। শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছিল। একদিন স্কুল থেকে ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সবকিছু শোনার পরে তাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিশোরীর বাড়ি বেলদা থানার হরিবাড় গ্রামে। হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত। মেয়েটির মা জানিয়েছেন, ক্রমশ মেয়েকে মানসিক অবসাদে চলে যেতে দেখে তাঁরা মেয়ের কাছে ছিলেন কিছুদিনের জন্য। তখনই ঘটনা সামনে আসে।
স্থানীয় লোকজনের দাবি, স্কুল শেষ হলে ওই কিশোরীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতেন প্রধান শিক্ষক। প্রথমে সন্দেহ হয়নি। আশুতোষবাবুও নাকি বলতেন মেয়েটা একা হোস্টেলে থাকে, তাই একটু ঘুরতে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পরে মেয়েটির পরিবারের সন্দেহের কতা শুনে সতর্ক ছিলেন স্থানীয়রা। গতকাল, বৃহস্পতিবার মেয়েটিকে ফের গাড়িতে তোলেন প্রধান শিক্ষক। বেলদা কাঁথি বাইপাস দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়ি আটকান এলাকার লোকজনেরা। প্রথমে খুব রাগারাগি করলেও পরে চুপ করে যান শিক্ষক। তাঁর আচরণও নাকি ছিল সন্দেহজনক। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ এসে দু'জনকেই থানায় নিয়ে যায়। খবর দেওয়া হয় মেয়েটির বাড়ির লোকজনকে। পরে মেডিক্যাল টেস্টের জন্য তাকে পাঠানো হয় হাসপাতালে।
কিশোরী জানিয়েছে, তাকে রোজ জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতেন প্রধান শিক্ষক। বারণ করলে হুমকিও দেওয়া হত তাকে।
ঘটনার কথা শুনে রীতিমতো স্তম্ভিত বাণীভবন হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে সরব বাকি পড়ুয়াদের অভিভাবকরাও। প্রধান শিক্ষককে স্কুল থেকে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছেন নির্যাতিতার বাড়ির লোকজন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগও দায়ের হয়েছে বেলদা থানায়।