দ্য ওয়াল ব্যুরো: সর্দি-কাশি সঙ্গে জ্বর। ধীরে ধীরে নিউমোনিয়া। চিন-ফেরত জো হুয়ামিনকে প্রথমে ভর্তি করা হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় এবং ভাইরাসের সংক্রমণ আঁচ করেই দ্রুত জো-কে ভর্তি করা হয়েছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। আলাদা কেবিনে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। জো-এর রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখে ডাক্তারদের ধারণা নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সঙ্গে নিয়েই ভারতে ঢুকেছিলেন তরুণী।
বছর আঠাশের জো হুয়ামিন চিনের নাগরিক। গত ছ’মাস ধরে তিনি নানা দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। নামিবিয়া, মরিসাস, মাদাগাস্কার ঘুরে চিন হয়ে ২৪ জানুয়ারি কলকাতায় আসেন। সূত্রের খবর, জ্বরে কাবু হয়ে তিনি নাকি নিজেই অ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয় বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে।
নোভেল করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়াচ্ছে গোটা বিশ্বেই। সূত্রপাত চিনে হলেও, ইতিমধ্যেই হংকং, সিঙ্গাপুর, তাইল্যান্ড, জাপান, নেপাল এমনকি আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাস আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হয়েছে কলকাতা, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, দিল্লি, মুম্বই বিমানবন্দর-সহ দেশের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে। এখনও অবধি থার্মাল স্ক্রিনিং হয়েছে ২৯ হাজারেরও বেশি মানুষের।
বিহারের ছাপড়া ও রাজস্থানের জয়পুরে চিন-ফেরত দু’জন ভর্তি হাসপাতালে। অনুমান করা হচ্ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে তাঁদের মধ্যেও। এর আগে মুম্বই বিমানবন্দরে চিন-ফেরত দু’জনকে সর্দি-জ্বরের উপসর্গ নিয়ে কস্তরবা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁরাও সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলেই ধারণা ডাক্তারদের। মহারাষ্ট্র ও কেরলে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে অন্তত ১০০ জনকে। মুম্বই ও পুণের একাধিক হাসপাতালে তৈরি হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড। ভাইরাসের মোকাবিলা করার মতো সবকরম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে হাসপাতালগুলিতে।
কলকাতায় ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। সূত্রের খবর, সংক্রামিত রোগীদের আলাদা করে রাখার জন্য হাসপাতালে ১৬টি কেবিন ও দু’টি আইসিইউ প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের সঙ্গে কথা হলে প্রাথমিকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর মতো যাবতীয় ওষুধপত্রও মজুত রাখা হয়েছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ টিম তৈরি রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নোভেল করোনাভাইরাস বা উহান ভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটাই সার্স বা ‘সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম’-এর মতো। প্রবল জ্বর-সর্দি-কাশি থেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন রোগী। সংক্রমণ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে গোটা শরীরেই। বিকল হতে শুরু করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। শেষ পরিণতি মৃত্যু। অনুমান, এই সংক্রমণ মানুষের মাধ্যমেও ছড়াতে শুরু করেছে। যার জন্য বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের প্রতিটি কেবিনে আইসোলেশন ওয়ার্ডের মতো ব্যবস্থা রয়েছে। প্রত্যেক রোগীর জন্য থাকবে আলাদা অক্সিজেন মাস্ক। বাথরুমও হবে আলাদা। ২৪ ঘণ্টা রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।