দ্য ওয়াল ব্যুরো: নোটবন্দির বিরুদ্ধে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সামনে তৃণমূলের ধর্ণা মঞ্চে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বসে রয়েছেন। ব্যাকস্টেজে তখন ফিরহাদ হাকিম, পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং কয়েক জন সাংবাদিকদের সঙ্গে আড্ডায় শোভন চট্টোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ বাদে মঞ্চে উঠলেন শোভন!
সেটা দুহাজার ষোল সাল। ডিসেম্বর মাস।
পরের বছর শোনা গেল, বেহালার বাড়িতে তুমুল অশান্তি। স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় বনাম শোভন চট্টোপাধ্যায়। তখনও কলকাতার মহানাগরিক শোভন। ছোট লালবাড়িতে বসেন। উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বড় বাড়ির হাঁড়ির খবর নিয়ে শহর কলকাতা থেকে গ্রামগঞ্জে অসীম কৌতূহল সে সময়ে। তার পর এক সময়ে তা কার্যত প্রকাশ্য খেউড়ের পর্যায়ে নেমে আসে। আদালতে বিচ্ছেদ মামলা ঠুকে দেন শোভন।
বেহালা থেকে বিষ্ণুপুর অনেকটা দূর। গুগল ম্যাপ বলছে প্রায় দেড়শো কিলোমিটার। সওয়া চার ঘণ্টার রাস্তা। কিন্তু কীভাবে যেন সংক্রমণ ঘটে গেল। বিষ্ণুপুরের সাংসদ হলেন বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ। তাঁর স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল খাঁ। লোকসভা ভোটের সময়ে যখন আদালতের নির্দেশে সৌমিত্র বাঁকুড়া জেলাতেই ঢুকতে পারছেন না, তখবন প্রচারের জোয়াল ঠেলেছিলেন সুজাতা।
সেই তিনি, সুজাতা মণ্ডল সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দেন তৃণমূলে। তবে সুজাতা সৌমিত্রর বিরুদ্ধে অরাজনৈতিক কোনও আক্রমণ করেননি। সুজাতা শুধু বলেছেন, কোনও একদিন হয়তো সৌমিত্র নিজের ভুল বুঝে তৃণমূলে ফিরে আসবেন। তা ছাড়া বলেছেন, “বিজেপিতে তাঁর সম্মান, মর্যাদাহানি হচ্ছিল, মর্যাদা প্রতি মুহূর্তে ক্ষুণ্ণ হলে সেখানে থাকা যায় না।” প্রিয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রিয় দাদা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে তৈরি করে নেবেন, আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সুজাতা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরপরই আবার মুখ খুলেছেন সৌমিত্র। তিনি পষ্টাপষ্টিই জানিয়েছেন, “সুজাতাকে শিগগির ডিভোর্সের চিঠি পাঠাব।” সৌমিত্র এও বলেন, “বিজেপি আমাকে অনেক বড় জায়গা দিয়েছে। আর তৃণমূল দলটা এখন কার জমিদারি সবাই জানেন।” সেই সঙ্গে সুজাতার উদ্দেশে বলেছেন, “তুমি রাজনীতির কিছু জানো না, হ্যাঁ প্রচার করেছো ঠিকই, তোমাকে কেউ চিনত না। যে অভিষেকের নির্দেশে আমাদের বাড়ি ভাঙা হয়েছিল, এখন সেই দলে যাচ্ছ।”
এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে হাউহাউ করে কাঁদতে শুরু করেন সৌমিত্র। তার পর বলেন, "রাজনীতির জালে আটকে গেলে গো! কাদের কথা শুনে! ১০টা বছর তো সুজাতা বলতে পাগল ছিলাম। অন্য কোনও সম্পর্কে জড়াইনি। সেই মানুষটার কথা না শুনে এই জায়গায় এলে? কী পাপ করেছি আমি!” এখানেই না থেমে বলেন, “সৌগতবাবু পরিবার ভাঙুন ক্ষতি নেই। তবে হ্যাঁ সুজাতা, আজ খাঁ পদবী থেকে মুক্তি দিচ্ছি তোমাকে।”
সৌমিত্রর এক ঘনিষ্ঠের কথায়, সুজাতা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন বলেই সৌমিত্র ডিভোর্সের চিঠি পাঠাতে চলেছেন, এমন নয়। গত কিছুদিন ধরেই পারস্পরিক বনিবনার অভাব হচ্ছিল। সুজাতার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। একটা সময়ে শোনা গিয়েছিল বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী হতে চান তিনি। কিন্তু বিজেপিতে এমন সিস্টেম নেই। তার পর আরও পাঁচ-সাত কারণে...।
দাম্পত্যের অশান্তি রাজনীতির ময়দান পর্যন্ত গড়াতে বেহালাতেও দেখা গিয়েছে। শোভন এখন বেহালায় থাকেন না। তিনি থাকেন গোলপার্কের বহুতলে। বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। এই অবস্খায় বেহালায় তৃণমূলের সাংগঠনিক কাজে আকছার সক্রিয় দেখা যায় রত্নাকে। বিষ্ণপুরও তাকিয়ে রয়েছে আগামীর দিকে। কী হয়! কী হয়!