
শেষ আপডেট: 21 March 2019 18:30
সতীমার দোল যেহেতু শাক্ত মতে পালিত হয়, তাই একে ঘিরে প্রচলিত কাহিনীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এই দোল মূলত কর্তাভজা সম্প্রদায়ের। কথিত আছে, আউলচাঁদ বা আউলচন্দ্র, রামশরণ পাল-সহ একুশ জনকে দীক্ষা দেন। এই রামশরণের স্ত্রীর সরস্বতী দেবীই হলেন ‘সতী মা’। আউলচন্দ্র মৃতপ্রায় সতী মা’কে বাঁচিয়ে তুলেছিলেন।
কিংবদন্তি বলে, উলা বীরনগরের মহাদেব বারুইয়ের পানের বরজে একটি শিশুকে পাওয়া যায়। শিশুটির নাম হয় পূর্ণচন্দ্র। পরে সাধনায় সিদ্ধিলাভের পরে পূর্ণচন্দ্র বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁর নতুন নাম হয় আউলচাঁদ। নানা স্থানে ধর্ম প্রচার করে তিনি উপস্থিত হন কল্যাণীর এই ঘোষপাড়ায়। আউলচাঁদের অলৌকিক ক্ষমতার কথা ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মুখে মুখে। বহু মানুষের বিশ্বাস আউলচাঁদই নবদ্বীপের শ্রীচৈতন্য। বিষ্ণুপ্রিয়ার অভিশাপে তাঁকে আবার জন্মগ্রহণ করতে হয়েছিল। ইনি কর্তাভজা সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা। সতীমার গর্ভে জন্ম নেন দুলালচাঁদ। লোকবিশ্বাসে এই দুলালচাঁদই হয়ে ওঠেন নবদ্বীপের নিমাইচাঁদের অবতার। তাঁর সময়ই মেলা ও কর্তাভজা সম্প্রদায় ব্যাপক প্রসার ঘটে।

জনশ্রুতি রয়েছে, এই আউলচাঁদ নদিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে তাঁর সমস্ত ক্ষমতা প্রদান করে গিয়েছিলেন তাঁর শিষ্য রামশরণ পালের স্ত্রী সরস্বতী দেবীকে। এই সরস্বতী দেবীই নাকি হলেন সতী মা। তিনি দুধপুকুরে স্নান করে ডালিম গাছের তলায় বসে বহু মানুষের দুরারোগ্য সারিয়েছেন। বর্তমানে ওই ডালিম গাছের নীচেই রয়েছে সতী মায়ের মন্দির।
দোলের দিন ভক্তরা ডালিমতলায় মানত করেন, হিমসাগরের জলে স্নান করে পুণ্যার্জন করেন, সতী মায়ের সমাধিতে সিঁদুর আর নোয়া দেন। আর মনস্কামনা পূর্ণ হলে দণ্ডি কেটে কিংবা ভাবের গান গেয়ে জানিয়ে যান কৃতজ্ঞতা। কর্তাভজা সম্প্রদায়ের এই মেলা দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতি বছরই মানুষের ভিড় হয় দেখার মতো।
বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। সার্কাস, ছোটদের মনোরঞ্জনের হরেক উপকরণ যেমন মেলে, তেমনই অন্য দিকে পাওয়া যায় পিতলের বাসনপত্র, বেতের ধামা, সাজি থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় নানা জিনিস। সাত দিনের মেলা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকে আঁটোসাঁটো। মেলা জমে ওঠে বাউল, কীর্তন, লোকগীতি, পল্লিগীতির সুরে। আখড়ায় আখড়ায় সারা রাত ধরে বসে গানের আসর। দোলপূর্ণিমার সকালে হয় দেব-দোল। তার পর শুরু হয়ে যায় আবির খেলা। সতী মায়ের ভিটে লাগোয়া এলাকা থেকে মেলাপ্রাঙ্গণ রঙিন হয়ে ওঠে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে।