
শেষ আপডেট: 24 February 2023 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: শুক্রবার সাগরদিঘির উপনির্বাচনে (Sagardighi bypoll) বিজেপি প্রার্থীর প্রচারে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই প্রচার চলাকালীন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত একটি গ্রামে নেমে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন শুভেন্দু। সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে সেখানেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনাদের কে তাড়াবে? চার-পাঁচ পুরুষ ধরে আপনারা রয়েছেন। আপনারা ভারতমাতার সন্তান। কেউ তাড়াবে না!’
বিরোধী দলনেতা এও বলেন, “আপনাদের ভুল বোঝানো হয়েছিল। তৃণমূল আপনাদের এসব ভুল বুঝিয়েই ভোট নিয়েছে”।
বিজেপিতে যাওয়ার পর সংখ্যালঘুদের একাংশের উদ্দেশে জেহাদি, বাংলাদেশি ইত্যাদি শব্দ বলা কার্যত রুটিনে পরিণত করে ফেলেছেন শুভেন্দু। সেই তিনি এদিন সংখ্যালঘুদের এ হেন ‘নরম’ মনোভাব দেখানোয় অনেকের নজরে পড়েছে। কানেও লেগেছে। অনেকের মনে হয়েছে ব্যতিক্রমী। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় গিয়েছেন বলেই কি রাতারাতি এই ভোলবদল?
তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এ ব্যাপারে বলেছেন, “এসব নাটক না করে, শুভেন্দু বলুন না দেখি, এনআরসি, সিএএ হবে না। সেটা বলার বুকের পাটা আছে? এতদিন সংখ্যালঘুদের জেহাদি বলেছেন, আজ সুর বদল করে সাধু সাজার চেষ্টা করছেন!’
এদিন সংখ্যালঘু মহিলাদের সঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায় শুভেন্দুকে। তাঁদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, মাসে যে রেশন তাঁরা পান তা আসলে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের দেওয়া। সেইসঙ্গে নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, ‘গত পঞ্চায়েত ভোটে আপনাদের মতামত নেওয়া হয়নি। জোর করে পঞ্চায়েত দখল করেছিল। এবার চোরেদের হারিয়ে জবাব দিন।’
প্রসঙ্গত, গত পঞ্চায়েত ভোটের সময়ে তৃণমূলের জেলাওয়াড়ি পর্যবেক্ষক ব্যবস্থা চালু ছিল। তখন মুর্শিদাবাদের পর্যবেক্ষক ছিলেন শুভেন্দুই। এ ব্যাপারে মুর্শিদাবাদের জেলা কংগ্রেস নেতা মনোজ চক্রবর্তী এদিন বলেন, “শুভেন্দু এখন জার্সি বদলে রত্নাকর থেকে বাল্মীকির মুখোশ পরছেন। মুর্শিদাবাদের মানুষ জানেন, তৃণমূলে থাকার সময়ে বিরোধীদের উপর পুলিশ দিয়ে কী অত্যাচারটাই না করিয়েছিলেন তিনি। শুধু তা নয়, অগণতান্ত্রিক ভাবে একের পর এক পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদ শুভেন্দুর নেতৃত্বে গায়ের জোরে দখল করা হয়েছিল। এ সব ভেক ধরলে মানুষ ভুলবে কেন!”