দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবারই দ্য ওয়াল-এ লেখা হয়েছিল, সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta) তৃণমূলে (TMC) ফিরতে চলেছেন। এও লেখা হয়েছিল, সব্যসাচীকে ফেরানোর ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছিলেন সুজিত বসুকে। জানতে চেয়েছিলেন তোর কোনও আপত্তি নেই তো?
সেই সব্যসাচী বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধানসভায় তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং ফিরহাদ হাকিম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার আগে দিদির সঙ্গেও দেখা করেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র। কিন্তু কাকতালীয় হল, সব্যর যোগদানে গরহাজির রইলেন বিধাননগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী সুজিত বসু।
সব্যসাচীর তৃণমূলে ফেরার পর সুজিতের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর ফোন বেজে গিয়েছে। হতে পারে শ্রীভূমি স্পোর্টিংয়ের পুজো নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন সুজিত।
এমনিতে তৃণমূলে থাকার সময় থেকেই সল্টলেকের রাজনীতিতে সুজিত-সব্যসাচী লড়াই ছিল সর্বজনবিদিত। ক্লাব বনাম ক্লাবের সংঘর্ষ থেকে দলীয় গোষ্ঠীর কোন্দল—মহিষবাথান থেকে দত্তাবাদ পর্যন্ত তা চলত। মুকুল রায় যখন সব্যসাচীর বাড়িতে গিয়ে লুচি-আলুরদম খেয়েছিলেন তারপর একবার সুজিতের ক্লাব শ্রীভূমিতেই সমস্ত কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সব্যসাচীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু উনিশের মাঝামাঝি সময়েই গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন সব্যসাচী। তারপর থেকে তাঁর শুধু একটাই লক্ষ্য ছিল, সুজিতের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটানো। বিধানসভা ভোটের আগে ঘনিষ্ঠ মহলে সব্যাসাচী বলতেন, তিনি সুজিতের মাথা থেকে লালবাতি খুলে নেবেন। কিন্তু দেখা গিয়েছে লবনহ্রদের ডার্বিতে বিজেপির সব্যসাচীকে বলে বলে গোল দিয়েছেন তৃণমূলের সুজিত।
বিধাননগরের বিধায়কের ঘনিষ্ঠদের দাবি, দিদি ফোন করে সুজিতদার থেকে জানতে চেয়েছিলেন তাঁর আপত্তি রয়েছে কি না। দাদা জানিয়েছিলেন আপত্তি রয়েছে। তবে নেত্রী যা সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই চূড়ান্ত। দেখা গেল এদিন ঘরওয়াপসি হল সব্যসাচীর।
বিধানসভায় যখন তাঁকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলেন, দু’বছর বিজেপিতে কাটানোর অনুভূতিটা ঠিক কী রকম?
জবাবে সব্যসাচী বললেন, “দূর থেকে চাঁদ ভাল লাগে। দেখতে সুন্দর। তবে চাঁদে ঘুরে এসে উপলব্ধি কী হয় তার জন্য বই পড়তে হবে।”