দ্য ওয়াল ব্যুরো: পলি পড়ায় জল কমেছে রূপনারায়ণ নদীতে। তার ফলে তিনফসলি থেকে কমতে কমতে এখন এক ফসলি হয়েছে এই নদীর অববাহিকার নিম্নগতির অন্তত সাত কিলোমিটার। বাধ্য হয়েই ইটভাটায় কাজ নিচ্ছেন কৃষকরা। আর জমির উপরের উর্বর অংশ তাঁরা বিক্রি করে দিচ্ছেন ইটভাটার মালিকদেরই।
বছর পঞ্চাশ আগেও রূপনারায়ণ নদীতে চলত বাজরা ও স্টিমারের মতো জলযান। তখন এখানে প্রচুর মাছও উঠত। নদীর দু’ধারে তখন অনেক পরিবারেরই জীবিকা ছিল মাছ ধরে বিক্রি করা। এখন নদীতে চড়া পড়ে যাওয়ায় এখানে ছোট নৌকা চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বভাবতই মৎস্যজীবীরাও সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরাও এখন ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করছেন নিরুপায় হয়েই।
বাকসির জিরো পয়েন্ট থেকে গাদিয়াড়া পর্যন্ত সাত কিলোমিটার অঞ্চলে এখন চাষ হয় বছরে একবার, বর্ষাকালে। এই সময় ধান চাষ করা হয়। বছরের বাকি সময়টা জমি পড়ে থাকে পতিত হয়ে। তাই কৃষক থেকে কৃষিশ্রমিক সকলকেই কাজ করতে হয় ইটভাটায়। অনেকে মাটি বিক্রি করে দেন ইটভাটার মালিককে। ফলে জমির উপরের অংশের উর্বর মাটি আর চাষের জন্য থাকছে না। যেখান থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়, বর্ষাকালে সেই জায়গাটির চেহারা পুকুরের মতো হয়। ফলে তখনও চাষ করা মুশকিল হয়ে যায়।
বেশ কিছুদিন ধরেই রূপনারায়ণে ভ্রমণার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। তাই এখানে অনেক হোটেল গজিয়ে উঠেছে। অনেকে কাজ করছেন সেই সব হোটেলে।
ঋণ মকুব করলে আর সারে ভর্তুকি দিলে আর যাই হোক, এই অঞ্চলের কৃষকদের অন্তত কোনও উপকার হচ্ছে না। এই অঞ্চলের মানুষ চান নদী সংস্কার করা হোক যাতে তাঁরা সেচের জল পান। এখানে রূপনারায়ণ নদী বাঁচাও কমিটি তৈরি হয়েছে যারা কৃষকদের নিয়ে আন্দোলন করছে। তারা চায়, অর্ধেক দামে বীজ দেওয়ার আগে ড্রেজিং করা হোক রূপনারায়ণ নদ। সেচের ব্যবস্থা করা হোক রূপনারায়ণকে বাঁচিয়ে।
উলুবেড়িয়ার মহকুমাশাসক তুষারকান্তি সিমলা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তাঁরা পুরো বিষয়টি জেলাশাসককে জানিয়েছেন। জেলার ভূমি ও ভূমিসংস্কার বিভাগ দেখছে কী ভাবে কৃষকদের এই সমস্যা মেটানো যায়।
নদীগুলিকে জলপথ হিসাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। পঞ্চাশ থেকে একশো বছর আগেও নদীগুলির যা নাব্যতা ছিল, এখন তা নেই। নদীগর্ভের অনেক জায়গাতেই এখন চড়া পড়ে গেছে। এ জন্য নদীপথে এখন আর যাত্রী পরিবহণ করা যায় না। রূপনারায়ণও ব্যতিক্রম নয়। তবে এই নদের সাত কিলোমিটার অংশের অবস্থা খুবই খারাপ।