দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: দই পড়া দিয়ে ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল রমরম করে। মন্ত্রতন্ত্র আউড়ে দুরারোগ্য ব্যধি নাকি নিমেষে সারিয়ে দিচ্ছিল ওঝা। বিশ্বাস এতটাই চেপে বসেছিল গ্রামবাসীদের মনে, যে এই কুসংস্কারের ঠেলা সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হলো পুলিশকে। ওঝাকে পাকড়াও করতে গিয়ে হাজার হাজার গ্রামবাসীর রোষের মুখে পড়লেন পুলিশ কর্মী ও বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যেরা। মাথা ফাটল ওসি-সহ ১২ জন পুলিশ কর্মীর।
চলতি সপ্তাহের প্রথম থেকেই উত্তপ্ত হরিহরপাড়ার খলিলাবাদ গ্রাম। পুলিশ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ওই ওঝাকে ধরতে গ্রামে হানা দেয় পুলিশ। গ্রামবাসীদের সচেতন করতে গিয়েছিলেন স্থানীয় কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যেরাও। কিন্তু পুলিশের রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন গ্রামবাসীরা। আর এই সুযোগে চম্পট দেয় ওই ওঝা।
মঙ্গলবারের পর ফের আজ, বৃহস্পতিবার পুলিশ গ্রামে ঢুকলে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায় গ্রামবাসীদের সঙ্গে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। হরিহরপাড়া বাজার এলাকা ও রাজ্য সড়কে জমায়েত হয়ে অবস্থান শুরু করে। বিক্ষোভ তুলতে গেলে পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। মাথা ফাটে ১২ জন পুলিশ কর্মীর। গুরুতর জখম ওসিও।
স্থানীয়দের দাবি, আমজাদ আলি নামে ওই ওঝা নাকি মানুষের ভালোই করছিল। তার দই পড়া খেয়েই নাকি দুরারোগ্য ব্যধি বিলকুল গায়েব হয়ে যাচ্ছিল। এক বিক্ষোভকারীর দাবি, ‘‘উনি তো আমাদের ভালো করছিলেন। কোনও পয়সা না নিয়েই চিকিৎসা হচ্ছিল। হাসপাতাল, নার্সিংহোমে গেলে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়। আমাদের মতো গরীব মানুষদের সেই সামর্থ্য কোথায়?’ পুলিশ জোর করে ওনাকে তাড়িয়ে দিল।’
গত চার-পাঁচ মাস ধরে খলিলাবাদ গ্রামে আসর জমিয়ে বসেছিল আমজাদ আলি। পুলিশ ও বিজ্ঞান কেন্দ্রের লোকজনের কথায়, একাধারে ওঝা, অন্যদিকে ডাক্তার সেজে গ্রামবাসীদের বিশ্বাস জিতেছিল। ওই গ্রামের লোকজন অসুখ হলে আর হাসপাতালে যেত না। ওঝার কাছেই ছুটত। কুসংস্কার এতটাই মাথাচাড়া দিয়েছিল যে ওঝাকে সবসময় আগলে রাখতেন গ্রামবাসীরা। আগেও তাকে ধরার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, গোটা গ্রাম এখনও ক্ষোভে ফুঁসছে। এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ওঝার খোঁজ চলছে।