
শেষ আপডেট: 10 July 2023 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাস কলকাতা থেকে উদ্ধার বস্তা বস্তা জাল ওষুধ। যে সে ওষুধ নয়, রোজের ব্যবহারের ওষুধ। উচ্চ রক্তচাপ, সুগার, গ্যাস, হার্ট কিংবা কিডনির সমস্যায় যেসব ওষুধ খান মানুষ, সেই ওষুধই জাল করে বিক্রি করা হচ্ছিল দিনের পর দিন ধরে। দেখলে বোঝারও উপায় নেই, কারণ অবিকল একই রকম দেখতে। সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোলার অরগাইজেশনের (CDSCO) একটি অভিযানে কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ২ কোটি টাকার এমনই জাল ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে (fake medicines found in Kolkata)।
সূত্রের খবর, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে একটি অভিযানে ১০ লক্ষ টাকার জাল ওষুধের সন্ধান মিলেছিল। তারপর সেই সূত্র ধরেই গোপনে তদন্ত চালানো হচ্ছিল। এরপর গত ৭ এবং ৮ জুলাই ক্রেতা সেজে কলুটোলার ৮২ নম্বর মওলানা শওকত লেনের একটি ৩ তলা বাড়িতে অভিযান চালান কেন্দ্রীয় সংস্থাটির আধিকারিকরা। সেখানেই অসীম সাধু নামে একজনের সঙ্গে দেখা হয় তাঁদের। তার কাছে খোঁজ করতেই বিপদ আঁচ করে অসীম গোয়েন্দাদের ভুল পথ দেখিয়ে দেয়।
কিন্তু আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, তিনতলার ওই ঘরই জাল ওষুধের গুদাম। এরপর আর একা নয়, সঙ্গে কলকাতা পুলিশকে নিয়ে ফের ওই গুদামে হানা দেন তাঁরা। কিন্তু গিয়ে দেখা যায়, ঘরের সামনের কলাপ্সিবল গেটে তালা মেরে পালিয়েছে অসীম সাধু। ঘণ্টা দুয়েক সেখানেই অপেক্ষা করেন সকলে। শেষমেশ ঠিক হয়, ঘরটি সিল করে দেওয়া হবে, তারপর পরবর্তী পদক্ষেপের কথা ভাবা যাবে।
কিন্তু ঠিক সেই সময়েই খটকা লাগে তাঁদের। তদন্তকারীরদের একজন জানান, তাঁর অনুমান, ঘরের ভিতরে কেউ রয়েছে। সে যাতে ধরা না পড়ে যায়, তার জন্যই ইচ্ছে করে কেউ বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে সকলকে বিভ্ৰান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এরপরেই গেটের তালা ভেঙে ফেলেন আধিকারিকরা। দেখা যায়, তাঁদের অনুমানই সঠিক। ভিতর থেকে বন্ধ রয়েছে ঘরের দরজা। এরপরেই ধাক্কাধাক্কি করতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে অসীম সাধু।
সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় তাকে। ওই গুদাম ঘর থেকেই বিপুল পরিমাণ জাল ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২ কোটি টাকা। তদন্তকারীদের অনুমান, শহরের আনাচে কানাচে ঘিঞ্জি জায়গায় এভাবেই ভেজাল ওষুধের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক চক্র। এই সমস্ত জাল ওষুধ কোথায় তৈরি হত, কোথায়ই বা পাচার করা হত, তা খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তকারীরা।
তবে এই উদ্ধার অভিযানের পর রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। খাস কলকাতায় রমরমিয়ে জাল ওষুধের চক্র চলছিল কীভাবে, কেনই বা স্বাস্থ্য দফতরের কাছে সেই খবর ছিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন ওষুধ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
অমিত শাহর দফতরে রাজ্যপাল আনন্দ বোস, তৃণমূল বলছে ‘তাজা বাতাস’ নিতে গেছেন