
শেষ আপডেট: 17 June 2023 04:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুর (Manipur unrest) নিয়ে ক্রমে সুর চড়ছে নানা মহলের। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্তারা মুখ খোলার আগে পাহাড়ি রাজ্যটির একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির সাবধানবাণী ছিল, পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকার কার্যকর ব্যবস্থা করুক।
এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরকে রঞ্জন সিং (RK Ranjan Singh) কোনওরকম রাখঢাক না রেখে বলে দিয়েছেন, মণিপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাজ্যের পরিস্থিতি।
মন্ত্রীর এই কথায় অনেকেই মনে করছেন, নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার বিদেশ প্রতিমন্ত্রী আরকে রঞ্জন রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি তুলছেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই বক্তব্য কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য খুবই অস্বস্তির বলে মনে করা হচ্ছে। এরপরও মণিপুর নিয়ে মুখ খোলেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চুপ করে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।
মণিপুরের বর্তমান অবস্থাকে যুদ্ধধস্ত সিরিয়া, লেবানন, নাইজিরিয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা এল নিশিকান্ত সিং। তিনি মণিপুরের ভূমিপুত্র। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘মণিপুরে এখন যা অবস্থা তাতে যে কারও যে কোনও মুহূর্তে যা কিছু হতে পারে। জীবন, সম্পত্তি—কোনওকিছুর কোনও নিরাপত্তা নেই।’
সেই টুইট রিটুইট করে প্রাক্তন সেনাপ্রধান বেদপ্রকাশ মালিক লিখেছেন, ‘এর চেয়ে দুঃখের আর কিছু হতে পারে না।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি লিখেছেন, ‘অবিলম্বে মণিপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া হোক।’ প্রসঙ্গত, গত ৩ মে থেকে শুরু হওয়া জাতিদাঙ্গায় মণিপুরে ১২০ জন খুন হয়েছেন। এলাকা ছাড়া ৫০ হাজারের বেশি পরিবার। জঙ্গিদের পথ অবরোধের জেরে নিত্যপণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া। বহু পেট্রল পাম্প তেলশূন্য।
কেন্দ্রের মন্ত্রী আরকে রঞ্জনের পূর্ব ইম্ফলের বাড়িতেই গত বৃহস্পতিবার বেশি রাতে জঙ্গিরা আগুন দিয়ে দেয়। দমকলের অনেক চেষ্টায় বাড়ির কিছুটা অংশ রক্ষা করা গিয়েছে। মন্ত্রী বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। গোলমাল শুরুর পর থেকেই মন্ত্রী সপরিবারে দিল্লির বাংলোয় থাকেন। বৃহস্পতিবারের ঘটনার সময় মন্ত্রী আরকে রঞ্জন ছিলেন তিরুঅনন্তপুরমে জি-২০ সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘আমার বাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হতে পারে এটা আমি ভাবতেই পারছি না। আমি একটি দলে থাকলেও এলাকাবাসীর সঙ্গে আমার সদ্ভাব সকলের জানা। চলতি অশান্তি নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করিনি। পক্ষ নেওয়ার প্রশ্ন আসে না।’ তাঁর বক্তব্য, তারপরও আমার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হল। অনেক কষ্ট করে বাড়িটি বানিয়েছিলাম। এখন এই কথা ভেবে আঁতকে উঠছি, বাড়িতে থাকলে আমাদের হয়তো সপরিবারে পুড়ে মরতে হত।
প্রসঙ্গত, আরকে রঞ্জনের বাড়িতে এবারই প্রথম নয়, ক’দিন আগে এক সন্ধ্যাতেও হামলা চালানো হয়। সেবার নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। রঞ্জনের পাশাপাশি বিজেপি এবং কংগ্রেসের দু’জন বিধায়কের বাড়িতেও আগুন দেয় জঙ্গিরা।
মণিপুরের অবস্থা যুদ্ধধস্ত সিরিয়া-লেবাননের মতো, টুইট অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তার