
শেষ আপডেট: 2 August 2023 09:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: একদিকে নিম্নচাপ, অন্যদিকে পূর্ণিমার ভরা কোটাল (Tide)। উত্তাল নদীর ঢেউয়ে ভেঙে গেল সুন্দরবন (Sunderbands) এলাকার অস্থায়ী নদী বাঁধের (River Dam) একাংশ। তোড়ে নোনা জল ঢুকতে থাকায় বিপর্যস্ত গঙ্গাসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। মৌসুনি দ্বীপের অবস্থাও খুবই সঙ্গিন। তাই বাঁধ মেরামতে হাত লাগিয়েছেন স্থানীয়রা। সঙ্গে কাজ করছেন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরাও।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল শামিম শাহ জানিয়েছেন, নদীর জলোচ্ছাসে অস্থায়ী বাঁধগুলির কংক্রিটের ব্লক নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে। ভাটা শুরু না হলে বাঁধগুলি সারানো সম্ভব নয়। এদিকে গ্রামের মধ্যে নোনা জল ঢুকতে শুরু করায় চাষের জমিও নষ্ট হচ্ছে। ভাঙনের প্রবণতাও বাড়ছে।
বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত গভীর নিম্নচাপে ফুলে উঠছে সুন্দরবনের সমস্ত নদীর জলস্তর। বাঁধ টপকে কপিলমুনি আশ্রমের পাশে মেলার মাঠে জল ঢুকেছে। গঙ্গাসাগরের পয়লা ঘেরি, মন্দিরতলা চক, ফুলডুবি এলাকা সহ বেশ কয়েকটি জায়গাও প্লাবিত।
আবহাওয়া দফতর থেকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবর পেয়ে আগে থেকে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছিল প্রশাসন। মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে প্রস্তুতি নেয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরও। বুধবার সকালে এলাকায় বাঁধের বেশ কিছুটা অংশ নদীর দিকে হেলে যাওয়ার খবর পেয়ে গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানা মাইকিং শুরু করে। মৌসুনি দ্বীপ এলাকায় পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছে। বকখালিতে সমুদ্রে নামার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে নদী বাঁধ পরিদর্শনে আসেন গঙ্গাসাগর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল সামির শাহ ও মুড়িগঙ্গা দু নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিদায়ী প্রধান গোবিন্দ মণ্ডল। তাঁদের আশঙ্কা, বেলার দিকে ভাটার সময় জলস্তর কমলেও রাতের দিকে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে হলদি নদী। জলোচ্ছ্বাসে ভাঙতে পারে আরও কয়েকটি বাঁধ।
আরও পড়ুন: দিঘায় দুর্যোগ, ফুঁসছে সমুদ্র, পর্যটকদের সমুদ্রের ধারে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে