গৌর পেল লটারি! গুসকরার রিকশাওয়ালা এখন লাখপতি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুসকরার গৌরবাবু ‘ভানু পেল লটারি’ সিনেমাটা দেখেননি। কিন্তু রবিবার সারারাত দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি। কারণ সেই লটারি! পুরস্কারের অঙ্ক কড়কড়ে ৫০ লক্ষ টাকা। সরকারি কর বাদছাদ দিয়ে হাতে যা পাওয়া যাবে সেটাও কম নয়। টাকা হাতে
শেষ আপডেট: 29 September 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুসকরার গৌরবাবু ‘ভানু পেল লটারি’ সিনেমাটা দেখেননি। কিন্তু রবিবার সারারাত দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি। কারণ সেই লটারি! পুরস্কারের অঙ্ক কড়কড়ে ৫০ লক্ষ টাকা। সরকারি কর বাদছাদ দিয়ে হাতে যা পাওয়া যাবে সেটাও কম নয়। টাকা হাতে পেতে না পেতেই গুসকরার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুচিপাড়ায় ‘ভিআইপি’ হয়ে গিয়েছেন রিকশাওয়ালা গৌর দাস।
মাত্র একটা দিন। আর তাতেই ভাগ্য বেমালুম বদলে গেল গৌরবাবুর। রবিবার সকালে রিকশা টেনে ৭০ টাকা রোজগার হয়েছিল। বিকেলে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে পিকনিক করার কথা। জলদি বাড়ি ফেরার সময়তেই ঘটনাটা ঘটল। পাড়ার লটারির দোকানের পাশ দিয়ে রিকশা চালিয়ে ফেরার সময় একেবারে ঝোলাঝুলি শুরু করে দিল লটারির দোকানের ছেলেটা। টিকিটের দাম ৩০ টাকা। পকেটে রয়েছে মাত্র ৭০ টাকা, তার মধ্যে আবার লটারির টিকিট, ইয়ার্কি নাকি? মৃদু ধমকে কাজ হল না। লটারিওয়ালা আরও নাছোড়। বাদলা দিনে দোকান বন্ধ করার আগে টিকিট সে বেচেই ছাড়বে। অগত্যা ৩০ টাকা দিয়ে লটারির টিকিট কিনেই ফেলেছিলেন গৌরবাবু।
মুচিপাড়ায় অ্যাসবেস্টাসের ছাউনি দেওয়া ছোট ছোট দু'টো ঘর। বৃদ্ধা মা, বউ আর তিন সন্তানের সংসার। রিকশা টেনে দিনে আয় ওই ৭০ টাকার মতোই। পাড়ার কিছু বাঁধাধরা খদ্দের। উৎসব-অনুষ্ঠানে আরও ক'টা টাকা বেশি আয় হয়। তাতে অবশ্য সংসার চলে না। ছ'টা পেট চালাতে জনমজুরিও করতে হয় গৌরবাবুকে। মজুর খাটেন তাঁর স্ত্রী ও মা'ও। অভাব থাকলেও লটারির টিকিট কেটে চটজলদি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন কোনও দিন দেখেননি গৌর দাস। কারণ লটারির টিকিট কাটার বিলাসিতা তাঁর ছিল না, বরং গায়েগতরে খেটে টাকা রোজগারেই বেশি বিশ্বাস করতেন।
গৌরবাবুর কথায়, "৩০ টাকা দিয়ে লটারির টিকিট কাটতে চাইনি। কারণ রোজগারই তো দিনে ৭০ টাকা। কিন্তু ছেলেটা চেনা, আর এত জোরাজুরি করল যে শেষে রাজি হয়ে যাই।" বিকেলে তাঁদের রিকশা ইউনিয়নিয়নের পিকনিক বৃষ্টির জন্য ভেস্তে যাওয়ায় টিকিটের নম্বর মেলাতে পাড়ার কাছেই একটি কাউন্টারে পৌঁছে যান। আর গিয়েই চোখ ছানাবড়া। প্রথমটায় বিশ্বাস করতে পারেননি। পরে ভালো করে নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হলেন তিনি একদিনেই লাখপতি হয়ে গেছেন। প্রথম পুরস্কার ৫০ লক্ষ টাকা তাঁর ঝুলিতেই এসেছে।
লাখপতি হয়ে অবশ্য খুব বড়সড় স্বপ্ন দেখছেন না গৌরবাবু। ভাঙা ঘরে থেকে চাঁদ ধরার ইচ্ছা তাঁর নেই। চাহিদা খুব সামান্যই। টাকাটা সঞ্চয় করবেন ঠিকমতো। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ আছে। ঘর দুটোও একটু সাড়াতে হবে। রিকশা টানার ধকল বেশি, একটা টোটো কিনতে চান গৌরবাবু।
