দ্য ওয়াল ব্যুরো : অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার করার জন্য নাকি কোনও কোনও আইনজীবীকে ঘুষও দিতে চাওয়া হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র নিয়ে তদন্ত করার জন্য বৃহস্পতিবার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে পট্টনায়েককে নিয়োগ করল সুপ্রিম কোর্ট। তার আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা আইনজীবী উৎসব বৈঁসের দেওয়া হলফনামা খতিয়ে দেখেন। পরে তাঁরা বলেন, হলফনামায় যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা এতই গুরুতর যে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।
বিচারপতি অরুণ মিশ্র, বিচারপতি আর এফ নরিম্যান এবং বিচারপতি দীপক গুপ্তকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ বলেন, যখনই কোনও ব্যাপারে নামজাদা লোকেরা জড়িত হন, তখনই এই ধরনের কিছু ঘটে। এখন আমাদের ধনী ও ক্ষমতাশালী লোকজনকে সোজাসুজি বলতে হবে, আপনারা প্রতিষ্ঠানকে চালাতে পারবেন না।
প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে একদফা তদন্ত করছে সুপ্রিম কোর্ট। তার সমান্তরাল আর একটি তদন্ত করবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে পট্টনায়েক। কিন্তু দু’টি তদন্ত কোনভাবেই পরস্পরের দ্বারা প্রভাবিত হবে না।
উৎসব বৈঁস হলফনামায় জানিয়েছেন, অজয় নামে এক ব্যক্তি তাঁকে বলেছিল, প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে হবে। বিনিময়ে তিনি দেড় কোটি টাকা পাবেন।
প্রধান বিচারপতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিপন্ন। তাকে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে। আদালত জানতে চায়, অজয় নামে যে ব্যক্তি আইনজীবীকে ঘুষ দিতে চেয়েছিল, তার প্রকৃত পরিচয় কী। বিচারপতিরা বলেন, দেশের ধনী ও ক্ষমতাশালীরা আগুন নিয়ে খেলা করছেন। এসব বন্ধ হওয়া দরকার। কেউ কেউ চায় টাকার জোরে সবকিছু চালাতে। কেউ যদি পরিস্থিতি বদলাতে চেষ্টা করে, তার নামে আজেবাজে অভিযোগ তোলা হয়। অনেক সময় তাকে খুন করে ফেলা হয়। এমন চলতে পারে না।
নির্দিষ্ট পরিকল্পনামাফিক বিচার বিভাগের ওপরে আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে বিচারপতিরা মন্তব্য করেন। তাঁদের কথায়, ব্যাপারটা খুব সিরিয়াস। সুপ্রিম কোর্টকে কেউ দূর থেকে রিমোট কন্ট্রোলে চালাতে পারবে না। টাকা অথবা রাজনৈতিক প্রতিপত্তি, কিছু দিয়েই কেনা যাবে না সর্বোচ্চ আদালতকে। সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে যা ঘটছে, তা যদি চলতে থাকে, আমরা কেউই রক্ষা পাব না।