
শেষ আপডেট: 13 June 2022 15:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাছ কাটার কাঁচি দিয়ে ডান হাতের কব্জি কেটে দিয়েছিল স্বামী। হাসপাতালে ৯ দিনের যুদ্ধ শেষে হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরলেন কেতুগ্রামের রেণু খাতুন (Renu Khatun)। সরকারি নার্সের (Nurse Attack) চাকরি পাওয়ার পর তাঁর স্বামী তাঁর হাত কেটে নিয়েছিল নৃশংসভাবে। তবে এখন রেণু সম্পূর্ণ সুস্থ। নতুন করে শুরু হয়েছে তাঁর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং কেতুগ্রামের রেণু খাতুনকে কৃত্রিম হাতের বন্দোবস্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন সেই দিনটার জন্যেই অপেক্ষা করে আছেন রেণু (Ketugram Nurse)। নিজের হারানো হাত আর ফিরে পাবেন না তিনি। অপেক্ষা তাই কৃত্রিম হাতের। স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবেই আগামী দিনে কাজ করতে চান রেণু খাতুন।
আর শ্বশুরবাড়ি? না, সেখানে আর তিনি ফিরতে চান না। সংসার করতে চান না আর। এখন কেবল নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন আবার জোড়া লাগানোই রেণুর একমাত্র লক্ষ্য। হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে রেণু খাতুনের চিকিৎসা হয়েছে। সরকারের সাহায্য পেয়ে তিনি আপ্লুত। ধন্যবাদ জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, হাত হারানোয় রেণুর চাকরি যাবে না। নার্সের কাজ হয়তো তিনি আর করতে পারবেন না, তাঁকে বদলে অন্য কাজ দেওয়া হবে। তার পরপরই নতুন চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছিলেন রেণু। হাসপাতালের বেডে বসে বাঁ হাতে তুলে নিয়েছিলেন সেই নিয়োগপত্র। যত দ্রুত সম্ভব নতুন চাকরিতে যোগ দিতে চান তিনি। স্বামীর আক্রোশে ডান হাত খোয়াতে হয়েছে তাঁকে, হাসপাতালে বসে বসেই বাঁ হাতে লেখা অভ্যেস করছিলেন তিনি। ঘুরে দাঁড়ানোর এই জেদই রেণুকে অনুপ্রেরণা করে তুলেছে সমস্ত নিগৃহীত, নিপীড়িত মেয়েদের কাছে।