
শেষ আপডেট: 15 April 2023 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: তিনি পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন, চাকরি করতে চেয়েছিলেন। সেই অপরাধেই ভারতে অস্ত্রের কোপে কব্জি থেকে ডান হাতটাই কেটে নিয়েছিল স্বামী। কিন্তু তারপরেও হার মানেননি পূর্ব বর্ধমানের (Bardhaman) কেতুগ্রামের লড়াকু তরুণী রেণু খাতুন (Renu Khatun)। উল্টে চিকিৎসার পর সামান্য সুস্থ হওয়া মাত্রই যোগ দিয়েছিলেন বর্ধমানের সরকারি নার্সিং কলেজের চাকরিতে। সেই ঘটনার পর কেটে গেছে প্রায় দশ মাস। এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রেণুর জন্য কৃত্রিম হাতের (Artificial hand) ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শুক্রবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই কৃত্রিম হাত জোড়া লাগল রেণুর শরীরে।
আজ থেকে প্রায় দশ মাস আগে রেণুর স্বামী তাঁর হাত কেটে নিয়েছিলেন। তার কয়েকদিন পরেই সরকারি নার্সিং কলেজে যোগদান করার কথা ছিল রেণুর। স্ত্রীকে আটকাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর মুখে বালিশ চাপা দিয়ে আরও ৫ জনের সঙ্গে মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেণুর ডান হাত কব্জি থেকে কেটে নিয়েছিল স্বামী শের মহম্মদ। সেই ঘটনায় এখনও জেলেই রয়েছে মূল অভিযুক্ত শের মহম্মদ। তবে বাকি ৫ জনকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে আদালত।
ভয়ঙ্কর সেই ঘটনার পরেও হাল ছাড়েনি লড়াকু রেণু। ডান হাত নেই তো কী, হাসপাতালের বিছানায় বসেই বাঁ হাতে লিখতে শুরু করেছিলেন তিনি। এখন তো বাঁ হাতের দিব্যি লিখতে পারেন তিনি।
রেণুর ঘটনা সামনে আসার পরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল রাজ্যজুড়ে। রেণুর হাত প্রতিস্থাপনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। সেই ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কৃত্রিম হাতের জন্য পূর্ব বর্ধমানের জেলা পরিষদ তহবিল থেকে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তারপর গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজে রেণুর হাত প্রতিস্থাপন করা হয়। এখন ডান হাতেও লিখতে পারছেন তিনি।
এ বিষয়ে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ কৌস্তুভ নায়েক জানিয়েছেন, হাত প্রতিস্থাপনের আগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে রেণুকে। কিছুদিন পর থেকে তিনি সব কাজই করতে পারবেন।
নতুন হাত পেয়ে অত্যন্ত খুশি রেণু নিজেও। 'ডান হাত-বাঁ হাত, দুটো হাতেই লিখতে পারছি এখন। মনে হচ্ছে সব্যসাচী হয়ে উঠলাম,' দাবি তাঁর।
আকাদেমিতে নাটকের শো বাতিল করলেন দেবেশ চট্টোপাধ্যায়! এসি বিভ্রাটের জের