দ্য ওয়াল ব্যুরো : সমাজবাদী পার্টির নেতা মুলায়ম সিং যাদব ও তাঁর ছেলে অখিলেশ সিং যাদবের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়েছে ২০১৩ সালে। তাঁদের আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি আছে বলে জানা যায়নি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানাল সিবিআই।
নির্বাচনের ফল বেরোনর আগে মুলায়ম ও অখিলেশকে ক্লিনচিট দিয়ে সিবিআই জানিয়েছে, তাঁরা কোনও অপরাধজনক কাজে জড়িত বলে জানা যায়নি।
মুলায়ম আগে জানিয়েছিলেন, ২০০৫ সালে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছিলেন বিশ্বনাথ চতুর্বেদী নামে এক কংগ্রেস কর্মী। কিন্তু সিবিআই বা আয়কর দফতর তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পায়নি। ভোটের আগে ওই কংগ্রেস কর্মী নতুন করে তাঁদের নামে নতুন করে আবেদন করেন। মুলায়মের দাবি, তাঁদের পরিবারের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করার জন্য বহু পুরানো আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির মামলা নতুন করে তোলা হচ্ছে।
২০০৫ সালে চতুর্বেদী সুপ্রিম কোর্টে মুলায়মদের বিরুদ্ধে জনস্বার্থের মামলা করেন। তাঁর আবেদন ছিল, মুলায়ম, অখিলেশ, তাঁর স্ত্রী ডিম্পল ও মুলায়মের ছোট ছেলে প্রতীকের বিরুদ্ধে তদন্ত করুক সিবিআই। ক্ষমতায় থাকার সুবাদে তাঁরা বিপুল পরিমাণে অবৈধ সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।
২০০৭ সালের ১ মার্চ শীর্ষ আদালত সিবিআইকে নির্দেশ দেয়, সমাজবাদী নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্যি কিনা, তদন্ত করে দেখা হোক। মুলায়ম ও অখিলেশ এই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করেন। কিন্তু ২০১২ সালে বিচারপতিরা সেই আর্জি নাকচ করে দেন। তাঁরা সিবিআইকে তদন্ত চালিয়ে যেতে বলেন। তবে ডিম্পলের আবেদন আদালতে গ্রাহ্য হয়। বিচারপতিরা সিবিআইকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হোক। কারণ তিনি কোনও সরকারি পদে নেই।
একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট ২০০৭ সালের নির্দেশে কিছু পরিবর্তন করে। সিবিআইকে নির্দেশ দেওয়া হয়, তদন্ত কতদূর এগল, তার স্ট্যাটাস রিপোর্ট কোর্টে পেশ করতে হবে। সরকারের কাছে নয়। ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইকে নির্দেশ দেয়, মুলায়মদের বিরুদ্ধে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে তার স্ট্যাটাস রিপোর্ট দিতে হবে। বিচারপতিরা বলেন, ২০০৭ সালে সিবিআই জানিয়েছিল, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, মুলায়মদের বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে। তারপরে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে আমরা জানতে চাই।