
শেষ আপডেট: 12 September 2020 14:26
গুলাল বেওয়া তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে নাতি করিমুল্লা ও তার স্ত্রীর থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এদিকে ছেলেকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য মায়ের উপর আরো রেগে গিয়ে অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় জমাত আলি। স্বামীর মতোই শাশুড়িকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করতো বৌমা করিমাও।
শুক্রবার ১১ই সেপ্টেম্বর লকডাউন থাকায় ভিক্ষাবৃত্তি সেরে বৃহস্পতিবার একটু রাতেই বাড়িতে ফিরেছিলেন বৃদ্ধা গুলাল বেওয়া। বাড়ি ফিরতেই আচমকা ছেলে জমাত আলি ও বৌমা করিমা ঝাঁপিয়ে পড়েন বৃদ্ধার উপর।বৃদ্ধাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ছেলে বৌমার বেদম প্রহারে অজ্ঞান হয়ে যান বৃদ্ধা।
ঠাকুমাকে নিগ্রহ করা হয়েছে এই খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ছুটে যান নাতি করিমুল্লা। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ঠাকুমাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতেই ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় বৃদ্ধার নাতি।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানেই বৃদ্ধা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঠাকুমার উপর অকথ্য অত্যাচারের জন্য বাবা জমাত আলি ও মা করিমা বিবির নামে ক্যানিং থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন করিমুল্লা।
এদিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের তিনি জানান “প্রায় প্রতিদিনই বাবা ও মা দুজনেই ঠাকুমার উপর অকথ্য অত্যাচার করত। এমনকি ভিক্ষা করে ঠাকুমা যা আয় করেন, সেই টাকাপয়সাও গায়ের জোরে কেড়ে নেওয়া হত। ঠাকুমার অসাক্ষাতে চুরি করা হত তার জমানো টাকা। প্রতিবাদ করলেই জুটতো বেদম প্রহার। বাবা ও মায়ের এমন কৃতকর্মের উপযুক্ত শাস্তির জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।”
ঠাকুমাকে আগলে বাবা মায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হওয়ার জন্য করিমুল্লাকে বাহবা জানিয়ে প্রতিবাদী যুবকের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রতিবেশীরা। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানার পুলিশও।