দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁকে রত্না চট্টোপাধ্যায় পেটাতে পারেন, এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিষ্যুদবার সকালেই লালবাজারে হাজির হয়েছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলা গড়াতে না গড়াতেই রত্না জানালেন, তাঁর আশঙ্কা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে। একথা জানাতে তিনি প্রশাসনের সর্বস্তরে দরবার করবেন।
কেন এই আশঙ্কা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ধর্মপত্নীর?
রত্না জানাচ্ছেন, সম্পত্তিই এর কারণ।
গতকালই জানা গিয়েছিল, শোভনবাবু উইল করে দিয়েছেন, তাঁর অবর্তমানে সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি পাবেন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়কের আশঙ্কা, এটাই কাল হতে পারে। তাঁর কথায় ‘হয়তো কোন দিন শুনব শোভনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। ওরা কতদিন ওঁকে বাঁচতে দেবে জানি না। আমি একথা প্রশাসনকে জানিয়ে আসব।’
রত্নার অভিযোগ, বৈশাখী এবং তাঁর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্বামী হানিট্র্যাপ করে শোভনবাবুর দখল নিয়েছেন। উদ্দেশ্য একটাই ছিল, তাঁর সম্পত্তি নেওয়া। সেই প্রসঙ্গেই রত্না বলেছিলেন, দুটোকেই ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে পেটানো উচিত।
আরও পড়ুন: বেহালার বাড়িতে আমার অস্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারত, বৈশাখীর কাছে নিরাপদ, পাল্টা শোভন
রত্নার এই কথার পরেই লালবাজারে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন বৈশাখী। তাঁর অভিযোগ, রত্না চট্টোপাধ্যায় তাঁকে এবং তাঁর স্বামীর উপর আক্রমণ করিয়ে দিতে পারেন। তাই পুলিশি নিরাপত্তারও আবেদন করেছেন তিনি।
সম্পত্তি উইল করা নিয়েও আইনি রাস্তায় হাঁটার কথা বলেছেন রত্না। তাঁর বক্তব্য, ‘দেশের আইন ব্যবস্থা তো উঠে যায়নি। কী করে বিবাহিত স্ত্রী ও সন্তানদের বাদ দিয়ে অন্য কাউকে সম্পত্তির পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি করা যায়? এটা আইনি পথেই বুঝে নেব।’
এক বছর আগেও দেখা যেত, বৈশাখী কিছু বললেই সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিক্রিয়া দিতেন রত্না। চোখা চোখা বাক্যে আক্রমণ শানাতেন। কিন্তু এক বছরে ছবিটা ভিন্ন। রত্না এখন শোভন ও তাঁর বান্ধবীর সম্পর্ক নিয়ে খুব একটা উৎসাহ দেখান না। যবে থেকে দিদি তাঁকে সাংগঠনিক দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তবে থেকেই রত্না যেন অনেক সংযত, সতর্ক। বিধায়ক হওয়ার পর তা আরও বেশি করে নজরে আসে।
প্রসঙ্গত নিজাম প্যালেসের ঘটনা এবং এসএসকেএম কাণ্ডের পরেও রত্না সে ভাবে চড়া সুরে কিছু বলেননি। বরং ছেলেয়েদের বুঝিয়েছিলেন, কী দরকার ঝামেলার। ছেড়ে দে!
কিন্তু ফেসবুকে শোভন-বৈশাখীর সাক্ষাৎকার, মধ্যরাতে বৈশাখী ব্যানার্জি থেকে প্রোফাইলের নাম বৈশাখী শোভন ব্যানার্জি হয়ে যাওয়া এবং তারপর বৈশাখীকে সমস্ত সম্পত্তি শোভনবাবু লিখে দেওয়ার কথা ঘোষণার পর রত্না আর বোধহয় নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না।
সংঘাত নয়। এখন তাঁর আশঙ্কা একটাই, শোভনবাবুকে বাঁচতে দেওয়া হবে তো?